ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় শনিবার প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।
এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ তার প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক করেছেন।
শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই পরিষদের বৈঠকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা ছিল। বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়।
পরে তা জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহিংসতা ও লুটপাটের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংকটের কারণে চলতি মাসের শেষ দিকে নাইজেরিয়া ও সেনেগাল সফর স্থগিত করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই বিক্ষোভকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এক জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেন এগিয়ে রয়েছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার রাজনৈতিক অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী সংগঠন ‘হাই স্কুল রিনিউয়াল’-এর সভাপতি নাথানায়েল কমবারি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার আমূল সংস্কারই তাদের প্রধান দাবি।
ফ্রান্স সরকার বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, গত শনিবারের সহিংস ঘটনার পর ২১৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রায় অর্ধেকই আগে কখনো অপরাধে জড়াননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গত সপ্তাহান্তে ‘প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার’ চেষ্টা চালানোর অভিযোগে তিনি চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ফ্রান্সে শনিবার দ্বিতীয় দফায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লিওঁ শহরের কেন্দ্রস্থলে এই সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের বাস্তিল স্কয়ার থেকে নেশন স্কয়ার পর্যন্ত নির্ধারিত সীমিত পথে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হবে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরেও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজিত বিক্ষোভকে বিশেষ বিবেচনায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বুশ-দু-রোন বিভাগের মধ্যে এটিই একমাত্র অনুমোদিত বিক্ষোভ।
এদিকে শনিবার মার্সেইয়ের সব গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে রাজধানী প্যারিসে নিরাপত্তার কারণে লুভরসহ প্রধান জাদুঘরগুলো শনিবার বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া আর্ট বাসেল শিল্প মেলার কার্যক্রমও সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে পুলিশের প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



