ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। বলা হচ্ছে, বহু বছর পর ধর্মীয় শাসনের বিরোধীদের এটাই সবচেয়ে বড় আন্দোলন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তেহরান ও ইরানের দ্বিতীয় বড় শহর মাশহাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়। নিরাপত্তা বাহিনী তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেনি।
এরপর একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পতন এবং সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভির দেশে ফিরে আসার দাবি করতে শোনা যায়। রেজা পাহলভি নিজেও মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইরানের মুদ্রার দাম পড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে।
টানা ১২ দিন ধরে এই অস্থিরতা চলছে এবং এটি ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন শিশু এবং ৮ জন নিরাপত্তা কর্মী। এ ছাড়া ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসও বলছে, অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন শিশু। বিবিসি ফার্সি এখন পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর পরিচয় নিশ্চিত করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছয়জন নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছেন।
মাশহাদে একটি বড় সড়কে বিশাল মিছিল দেখা গেছে। সেখানে ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোন’ এবং ‘এটাই চূড়ান্ত লড়াই, পাহলভি ফিরে আসবে’ স্লোগান দেওয়া হয়।
কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীরা নজরদারি ক্যামেরা খুলে ফেলেছে।
তেহরানসহ ইসফাহান, বাবোল, তাবরিজ, দেজফুলসহ অনেক শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও স্লোগান দেখা গেছে—যেমন ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ এবং ‘ভয় পেও না, আমরা সবাই একসঙ্গে’। কিছু জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং গুলি চালানোর ঘটনাও দেখা গেছে।
রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, বিক্ষোভ শুরুর আগে মানুষকে একসেঙ্গে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ইউরোপীয় নেতাদেরও ইরান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভের মাত্রা কম দেখানোর চেষ্টা করে। এমনকি কোথাও কোথাও বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করে ফাঁকা রাস্তার ভিডিও দেখানো হয়। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরান কার্যত দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যে রয়েছে, যাতে মানুষ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে।
পশ্চিম ইরানের কিছু শহরে ‘ট্যাংক, কামান কিছুই কাজে আসবে না, মোল্লাদের যেতে হবে’ এমন স্লোগানও শোনা গেছে। কোথাও ব্যাংক ভাঙচুর ও দোকানপাট বন্ধ থাকার ছবিও দেখা গেছে। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়।
কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাওয়ে জানায়, এসব এলাকায় অন্তত ১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বুধবার ছিল সবচেয়ে সহিংস দিন—সেদিন সারা দেশে অন্তত ১৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। সংস্থাগুলোর মতে, সরকারের দমন-পীড়ন দিন দিন আরো কঠোর হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



