ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট এখন জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আমদানিকারকরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। শিপিং কোম্পানিগুলোও সময়মতো জাহাজের বার্থিং না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসনেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রথমেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা শেডগুলোকে কনটেইনার ইয়ার্ডে রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে এক্স-ওয়াই শেডে কনটেইনার সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। পুরাতন অকশন শেড, গাড়ি সংরক্ষণ শেড এবং ব্যাগেজ শেডেও সংস্কারকাজ চলছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আরও অন্তত ৬ হাজার কনটেইনার রাখার সক্ষমতা তৈরি হবে। এ ছাড়া এ বছরই ৬ হাজার রফতানি কনটেইনারের জন্য ডেডিকেটেড একটি নতুন শেড ও ৪ হাজার ধারণক্ষমতার আরেকটি শেড নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, “আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি, তা বাস্তবায়িত হলে আমদানিকারক ও রফতানিকারকরা আশ্বস্ত হবেন। তারা সময়মতো কনটেইনার ডেলিভারি পাবেন। ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ কমে আসবে।”
বর্তমানে বন্দরের ৫৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে এখন ৪৩ হাজারের বেশি কনটেইনার রয়েছে, সাথে আরও ১৩টি জাহাজ বহিঃনোঙ্গর ও জেটিতে অপেক্ষমাণ। অথচ বাস্তবতা হলো, প্রতিবছর ৩২ লাখের বেশি কনটেইনার ওঠানামা করে চট্টগ্রাম বন্দরে।
বন্দরের প্রধান প্রধান ইয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতা যথাক্রমে: জেনারেল কার্গো বার্থে ১৯,৮০৮ টিইইউএস, এনসিটিতে ১৩,৮৭৬ টিইইউএস, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালে ৮,৩৭৬ টিইইউএস, নিউমুরিং ওভারফ্লো ইয়ার্ডে ৬,০০০, সাউথ কনটেইনার ইয়ার্ডে ৩,০০০ এবং নর্থ কনটেইনার ইয়ার্ডে ২,৪৫৮ টিইইউএস। সব মিলিয়ে ৫৩,৫১৮ টিইইউএস ধারণক্ষমতা থাকলেও তা বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
শিপিং কোম্পানিগুলো বলছে, শুধু ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, বন্দরের ভেতরে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নও জরুরি। এমএসসি শিপিং লিমিটেডের কর্মকর্তা আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, “ব্যবসার বিস্তৃতির সঙ্গে বন্দরের হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়েনি। এ কারণে বার্থিং সংকট তৈরি হচ্ছে।”
একই মত দিয়েছেন রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহেদ আলম। তিনি বলেন, “গেট সিস্টেম সহজ করতে হবে। বন্দরে দ্রুত প্রবেশ ও বাহির নিশ্চিত করা গেলে কনটেইনার জট অনেকটাই কমে যাবে।”
চবকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন শেড তৈরি ও পুরোনো শেডগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সক্ষমতা ৬০ হাজার টিইইউএস ছাড়াবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কনটেইনার জট কমাতে বন্দরের বাইরে বড় আকারের ইয়ার্ড ও উন্নত লজিস্টিক সাপোর্ট জরুরি। কারণ প্রতিবছর কনটেইনার প্রবাহ বাড়ছে, সেই সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচও
.png)
.png)
.png)



