ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত ব্যক্তি মো. আমজাদ হোসেন ওরফে ‘দালাল আমজাদ’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, নির্বাচনী পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করতে তিনি ও তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে জালকুড়ি, ভূঁইগড়, সাইনবোর্ড ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাতে ও দিনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন ভোটার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বলা হয়েছে—ভোটকেন্দ্রে গেলে সমস্যা হবে, ভোট দিতে গেলে বিপদ আছে। কেউ কেউ সরাসরি বলেছে, ভোট দিতে গেলে বাড়িঘর ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে।”
স্থানীয় একটি ওয়ার্ডের এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “দালাল আমজাদের লোক পরিচয় দিয়ে কয়েকজন এসে বলে গেছে, ভোটের দিন ঘর থেকে বের হলে ভালো হবে না। আগেও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকায় আমরা আতঙ্কে আছি।”
আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, সিদ্ধিরগঞ্জের একটি অটোস্ট্যান্ড ও আশপাশের দোকানদারদের উদ্দেশে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, “ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কাউকে যেতে দেওয়া যাবে না। গেলে ফল ভালো হবে না।” এসব হুমকির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, দালাল আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে সেই তৎপরতা আরও বেড়েছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভোটকেন্দ্র ফাঁকা রাখাই এই হুমকির মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে একাধিক সচেতন নাগরিক বলেন, “ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা গণতন্ত্র ও আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে দালাল আমজাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাধারণ ভোটাররা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। হুমকি দিয়ে আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না।”
দালাল আমজাদের আগের নিউজ:
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনর্গঠনের চেষ্টা নস্যাৎ করতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’। গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়, যা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ফেজ–২ অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা। সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন আলোচিত ব্যক্তি ‘দালাল আমজাদ’, যিনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা, গোপন বৈঠক, অবৈধ অস্ত্রের মজুত এবং উসকানিমূলক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও তাদের সহযোগীদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে—এমন আশঙ্কা থেকেই ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করা হয়।
ফেজ–১ অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং একাধিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যায়। ফেজ–২ মূলত সেই পলাতকদের ধরতেই জোরদার করা হয়েছে।
যৌথবাহিনীর তৎপরতা
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২-এর আওতায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর, শিল্পাঞ্চল ও স্পর্শকাতর এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন আস্তানা ও গোপন ঘাঁটিতে চালানো হচ্ছে বিশেষ অভিযান।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে দালাল আমজাদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং পলাতক অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হয়, ততক্ষণ অভিযান চলবে।”
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়াকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক বিতর্কিত ব্যক্তি, যিনি বিভিন্ন মহলে পরিচিত ‘দালাল আমজাদ’ নামে।
আ.লীগের দোসর দালাল আমজাদ
অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার পেছনে অর্থের যোগান এবং মাঠপর্যায়ের নির্দেশনায় শামীম ওসমানের নাম উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি শুধুমাত্র স্বতঃস্ফূর্ত কোনো প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনে সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা কাজ করছে। আর সেই পরিকল্পনার অন্যতম অংশীদার হয়ে উঠেছেন ‘দালাল আমজাদ’।
এছাড়া ‘দালাল আমজাদ’র অতি ঘনিষ্ট ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ করার না শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান- বিদেশ পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শামীম ওসমানের নির্দেশে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ঝটিকা মিছিলের অর্থের জোগান দিচ্ছে ‘দালাল আমজাদ’। নির্বাচন বানচালের জন্যই এসব কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ঝটিকা মিছিল ও নৈরাজ্য হচ্ছে তা আওয়ামী লীগের গুপ্ত পালিয়ে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির কাজ। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় এ রকম ৪/৫ জন করে কমিটি গঠন করেছে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক বিভিন্ন এমপি। সিদ্ধিরগঞ্জে এই দায়িত্ব পেয়েছে ‘দালাল আমজাদ’ সহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি। সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে এর কার্যক্রম।
আওয়ামী লীগের এতো প্রভাবশালী নেতা থাকতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ‘দালাল আমজাদ’কে কেন এসব কাজের জন্য নির্বাচন করা হলো? প্রতিবেদকের এই প্রশ্নে তিনি জানান, আমজাদ হোসেন তেমন বড় কেউ না দলের। কিন্তু ৫ই আগষ্টের পর তার নামে কোনো মামলা হয় নি। এছাড়া সে এখনও নির্বিঘ্নে এখনও এলাকায় বসবাস করছে, তাই তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।
আগের নিউজ
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে শামীম ওসমানের দোসর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের খুনী দালাল আমজাদ। পুলিশ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও দালাল আমজাদ নির্বিঘ্নে তার অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও এই দালাল আমজাদের নামে কোনো মামলা হয় নি। বিএনপির নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এলাকায় বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে যাচ্ছে সে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের জনপদ সাইনবোর্ড, ভূইঁগড়, জালকুড়ি, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও বন্দরে যত হত্য্য, গাড়ি-দোকান ভাংচুর, গাড়ি পোড়ানো ও লুটতরাজ হয়েছে তার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল জালকুড়ি উত্তরপাড়ার ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও এলাকার চিহ্নিত দালাল, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারী মো: আমজাদ হোসেন।
এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্যে, আমজাদ হোসেন বহু বছর ধরে স্থানীয় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, এবং দালালি সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ার সুবাদে তিনি একের পর এক ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করেও থেকেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এলাকার মানুষ তাকে এক নামে চেনে—‘দালাল আমজাদ’। অথচ এই অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা জনসাধারণের কাছে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে— আমাদের ভাই কবরে, খুনি আমজাদ কেন এখনও বাইরে? পুলিশ প্রশাসন কি ক্ষমতাহীন?
শামীম ওসমানের সাথে চিহ্নিত দালাল, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারী আমজাদ
ছাত্র আন্দোলন দমনে পরিকল্পক ও অর্থদাতা
তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সকল অর্থের যোগান দাতা ও পরিকল্পনাকারীও ছিল আমজাদ হোসেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের বোরকা পড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অন্যতম দোসর ছিল। গত ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এগোচ্ছেন শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এ রকম এক ভিডিওতেও তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন।
ছবিতে লাল বৃত্তে চিহ্নিত দালাল আমজাদ
এ আন্দোলনে নিহত, নিখোঁজ ও আহত অনেক তরুণের পরিবার আজও বিচার পায়নি। অনেকেই আজও ঘরছাড়া। কিন্তু তাদের কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন—আমজাদ হোসেন কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না?
বিএনপি-জামায়াতকে হুমকি দিয়ে পোস্ট
শামীম ওসমানের ছায়াতলে বিকশিত এক অপরাধ সাম্রাজ্য
এছাড়া বিগত সরকারের আমলের সব জাতীয় নির্বাচনের আগে দালাল আমজাদ হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার সকল বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের নাম তালিকা করে, সেই তালিকা শামীম ওসমানকে পাঠাতো। পরে ওসব নেতাদেরকে মিথ্যা হয়রানিমূলক বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো হতো।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় না থাকলেও আমজাদ হোসেন তার অপরাধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। সাইনবোর্ড, ভূঁইগড়, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অটোরিকসা স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি, বাড়ি তৈরির সময় চাঁদা, বাড়ির রাস্তার দেয়ার নামে দু’পক্ষের থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন বিচার সালিশের নামে দু’পক্ষের থেকে টাকা আদায়সহ সব ধরনের অপরাধ নির্বিঘ্নে এখনও তিনি ও তার বাহিনী করে যাচ্ছে।
১৫ই আগষ্টের শোক প্রকাশে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী আমজাদ
জমি-বাড়ি ও রাস্তার নামে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জালকুড়ি উত্তরপাড়াতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত একজন জানান, আমি সাভারে থাকতাম পরিবার নিয়ে। এরপর ২০১৬ সালে পরিচিত একজনের মাধ্যমে আমজাদ হোসেনের সাথে পরিচয় হয়। পরে আমজাদ হোসেনের দালালিতে ৬ কাঠা জমি ক্রয় করি জালকুড়ি উত্তরপাড়াতে। এরপর ২০২২ সালে বাড়ি করতে গেলে আমজাদ হোসেন তার পরিচিত শিবু মার্কেটের এক ব্যবসায়ির কাছ থেকে (কম দামে ও মানে ভালো) বালু, সিমেন্ট ও রড কিনতে বলে এবং নিজেই রাজমিস্ত্রি ঠিক করে দেবে বলে জানায়। আমজাদ হোসেনের মিষ্টি ভাষা ও ব্যবহারে আমি তার ফাঁদে পা দেই।
ভুক্তভোগী জানান, আমি প্রথমে সেখান থেকেই কিনতাম। কিন্তু দাম বেশি ও পরিমাণে কম দেয়ায় আমি কেনা বন্ধ করে দেই। আর রাজমিস্ত্রিরা তো একদিনের কাজ তিন দিনে করতো। এমন অবস্থায় আমি নতুন রাজমিস্ত্রি ঠিক করি। এরপর কয়েকজন এসে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দিতে অস্বীকার করলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে থাকে। এরপর রাতের আধারে প্রতিনিয়ত রড, সিমেন্টের বস্তা চুরি হতে থাকে। এরপর ছাদ ঠালাইয়ের দিন চাঁদা চাওয়া লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় আমজাদ হোসেন ফোন দিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ কেমন চলছে জানতে চায়। চাঁদা ও কাজ বন্ধের বিষয়ে তাকে জানালে সে বলে- আমাকে খুশি করেন; বাকি সব আমি ম্যানেজ করে নিবো। পরে দুই ধাপে আমজাদ হোসেনকে ৪ লাখ টাকা দেই ও পুনরায় শিবু মার্কেটে তার পরিচিত দোকান থেকে মালপত্র কিনতে বাধ্য হয়েই বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করি।
ভুক্তভোগী আরও জানান, এরপর শুরু হয় রাস্তা দেয়ার নামে চাঁদা আদায়। কাঠাপ্রতি ১৫ হাজার করে ৬ কাঠার জন্য মোট ৯০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে আমজাদ হোসেন। এটা ৯নং ওয়ার্ডের সব বাড়ি তৈরির পর রাস্তার জন্য কাঠাপ্রতি নির্ধারিত চাঁদা ছিল তার। কেউ টাকা না দিলে বাড়ি তৈরি করলেও কোনো রাস্তা ব্যবহার করতে পারতো না।
এই ভুক্তভোগী আরও জানান- জমি কেনা, বাড়ি তৈরির মালামাল, রাজমিস্ত্রি, বাড়ি তৈরির সময় চাঁদা ও রাস্তার চাঁদা সব মিলিয়ে আমার কাছ থেকে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা নিয়েছে আমজাদ হোসেন।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানান নি কেন; রিপোর্টারের এমন প্রশ্নে এই ভুক্তভোগী জানান, তখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। জানালে এই এলাকায় আর থাকা লাগতো না। আর ক্ষমতা পরিবর্তনের পরও আমজাদ হোসেনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম একটুও কমেনি।
একই ধরনের ভুক্তভোগী এবং ঘটনার স্বাক্ষী সিদ্ধিরগঞ্জের রেজাউল ইসলাম, আনিসুল ভূইয়া, সোলেয়মান হোসেনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেকে, ভূঁইগড়ের সুমন মিয়া, সজল মিঞাসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেকে, সাইনবোর্ডের আজগর আলী, রহমত উল্লাহ (ব্যাংক কর্মকর্তা), ঝন্টু উল্লাহ্সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেকে এবং ফতুল্লার দেলোয়ার হোসেন, মোমেন মিয়া, মো: আকাশসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেকে।
শামীম ওসমানের সাথে মাদক কারবারি আমজাদ
বিস্তৃত অপরাধ নেটওয়ার্ক: কিশোর গ্যাং ও মাদক
জালকুড়ি ও সিদ্ধিরগঞ্জে রয়েছে তার নিয়ন্ত্রিত কিশোর গ্যাং। সেই কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্য হলো ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল বিক্রেতা সুজন। তার সাথে এই রিপোর্টার পরিচয় গোপন রেখে সখ্যতা গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে এই মাদকের মূল হোতা কে? জানতে চাইলে প্রথমে না বলতে চাইলেও পরে কাউকে না জানানোর শর্তে সে জানায়- আমজাদ হোসেন।
এছাড়া সাইবোর্ড, ভূঁইগড়, রুপগঞ্জ ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায়ও তার চুরি, ছিনতাই ও ডাকাত বাহিনী রয়েছে। যারা নির্বিঘ্নে অপরাধ করে যাচ্ছে।
শামীম ওসমানের সাথে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী আমজাদ
টাকা আত্মসাৎ ও কোর্টে মিথ্যা স্বাক্ষী
ভূঁইগড়ের রুপম নামে একজনকে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন আমজাদ। টাকা ফেরত চাইলে ভয় দেখিয়ে বলেন, “মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেব।” এমনই অভিজ্ঞতা রয়েছে রুপগঞ্জ, সাইনবোর্ড ও ফতুল্লার অনেকের।
এছাড়া বিভিন্ন চলমান মামলায় টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষীও দিয়ে থাকেন আমজাদ হোসেন। তার এ রকম একটি বাহিনী রয়েছে যারা টাকার বিনিময়ে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে থাকে।
এলাকার সালিশে চোর-ডাকাত সর্দার আমজাদ
ভুয়া সার্টিফিকেট, মিথ্যা পরিচয়
নিজেকে মেট্রিক (এসএসসি) পাস দাবি করলেও তার ৫ম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট আছে। সব জায়গায় নিজেকে ব্যবসায়ি দাবি করলেও তার মূল পেশা হলো চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দালালি।
মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় নিয়ে ভণ্ডামি
নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর ৩ মাস। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে তার বয়স দাঁড়ায় ১২ বছর। অথচ সরকার ঘোষিত নীতিমতে, সাড়ে ১২ বছরের কম কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে না (নিচে ভোটার আইডি কার্ড সংযুক্ত করা হয়েছে)। কিন্তু এলাকায় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সম্মান, সুযোগ-সুবিধা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন আমজাদ।
দালাল আমজাদ হোসেনের ভোটার আইডি কার্ড
প্রশাসনের নীরবতা ও মানুষের ক্ষোভ
আমজাদ হোসেনের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানিয়েছেন, “খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কত বছর ধরে এসব অপরাধ হচ্ছে? কেন এতদিন কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? কেন আমজাদের মতো একজন দাগী আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি?
জালকুড়ি, ভূইঁগড়, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, সাইনবোর্ড ও বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—এই দালাল, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
তারা বলেন, “আমরা আর চুপ থাকতে পারছি না। আমজাদের হাতে আমরা জিম্মি হয়ে আছি। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে রাতে গুম, দিনে মামলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের স্পষ্ট আহ্বান—এই অপরাধীকে রাস্তায় দেখা মাত্রই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। জনগণ আপনাদের পাশে থাকবে।”
৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিল দালাল আমজাদ, কিন্তু মাদক কারবারি-সন্ত্রাসী ও ৫ম পাস বলে তাকে সহ-সভাপতি পদ পেতে হয়
জেলার সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও যৌথ বাহিনির কাছে জালকুড়ি-ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবি দালাল, বাটপার, চাদাঁবাজকারী, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করা হোক।
৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিল দালাল আমজাদ, কিন্তু মাদক কারবারি-সন্ত্রাসী ও ৫ম পাস বলে তাকে সহ-সভাপতি পদ পেতে হয়
তথ্যসূত্র: জালকুড়ি, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও ভূইঁগড় এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী।
‘দালাল আমজাদ’র আগের নিউজগুলো পড়তে ক্লিক করুন:
চলছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’: এখনও অধরা আ.লীগের দোসর ‘দালাল আমজাদ’
দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে আলোচনায় শামীম ওসমান ও ‘দালাল আমজাদ’
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের খুনী ‘দালাল আমজাদ’
আমাদের ভাই কবরে, খুনি ও খুনের অর্থদাতা দালাল আমজাদ কেন বাহিরে?
বাংলাবার্তা/এমএইচ










.png)
.png)
.png)



