ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ এবং জাপানের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার এই আলোচনায় স্থান পায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, দ্রুতগতির রেল ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার এবং দেশটির প্রভাবশালী বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদনশিল্পের শক্তিশালী কেন্দ্রে (Manufacturing Hub) পরিণত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম বৃহৎ ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যেই দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করবে। এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বাজারকে কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও আবেগময় সম্পর্কের কথা স্মৃতির পাতায় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের জন্য এক অত্যন্ত অনুকরণীয় ও বিশেষ স্থান রয়েছে।" ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর যে কয়েকটি দেশ প্রথমদিকে বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল, জাপান তাদের অন্যতম। স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই দেশটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও প্রধান প্রধান অবকাঠামোগত ভিত্তি নির্মাণে অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধা, পূর্ণ আস্থা, বৈশ্বিক শান্তি, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার নীতির ওপর ভিত্তি করেই দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে তাঁর পিতা, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক দুই বার জাপান সফর এবং পরবর্তীতে তাঁর মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া সেই ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদূরপ্রসারী ও টেকসই স্তরে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ ও বিনিয়োগের আহ্বান বৈঠকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান শিল্পখাতকে গতিশীল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নির্ভরযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়ায় জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ (Partnership for Power Asia) উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে সম্প্রতি প্রদান করা ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের প্রশংসা করেন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো তৈরি, পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি (বিশেষ করে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ) খাতে বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি গড়ে তোলার রূপকল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সমকক্ষ সমন্বয়ে একটি মেগা 'বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক' প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবিত এই হাই-টেক পার্কের লক্ষ্য হবে জাপানের বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি, গবেষণা কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল তরুণ মেধা, উদীয়মান উদ্যোক্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির এক শক্তিশালী সেতু নির্মাণ করা।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত টেক পার্কে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল উপাদান—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং উন্নত ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের মতো কৌশলগত খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) প্রকৌশল এবং সংশ্লিষ্ট আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তিতে জাপানের যে বিশ্বমানের অগ্রগতি ও সক্ষমতা রয়েছে, তার থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে যৌথ গবেষণার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
উন্নত অবকাঠামো, হাই-স্পিড রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরাান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক যুগান্তকারী ও আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর রূপরেখা জাপানি প্রতিনিধিমণ্ডলীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি দেশের প্রধান ছয়টি বিভাগীয় শহরকে সরাসরি সংযুক্ত করে একটি উচ্চগতির দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক (High-speed Rail Network) নির্মাণ এবং সারা দেশে একটি সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন উড়াল সড়ক (Elevated Expressway) গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
এই ধরনের বিশালাকার ও দূরদর্শী অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের মাস্টারপ্ল্যান ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, উচ্চতর কারিগরি সহায়তা, সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) এবং নমনীয় শর্তে অর্থায়নে জাপানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তিনি মন্তব্য করেন যে, জাপানের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা বাংলাদেশের এই মেগা উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের রূপায়ণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (EPA) সম্প্রসারণ বাংলাদেশে জাপানি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বর্ধিত বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। বিনিয়োগকারীদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশের আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ, যুক্তিসঙ্গত করনীতি, শুল্ক ছাড়করণে স্বচ্ছতা এবং অর্জিত মুনাফা বা অর্থ স্থানান্তর (Profit Repatriation) প্রক্রিয়ায় অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, 'বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি' (EPA) দ্রুত স্বাক্ষর ও কার্যকর করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বাধা দূর হবে এবং উভয় দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সুবিধার বাস্তব সুফল দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও সংকট নিরসনে যৌথ পদক্ষেপ বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুপাক্ষিকতা বজায় রাখা, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশই তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বাত্মক ও ইতিবাচক সমর্থন দেওয়ায় জাপান সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তাঁর এই সভাপতির মেয়াদকালে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে জাপান ও বাংলাদেশ আরও নিবিড়ভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
দুই দেশই একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য নিজেদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় নিশ্চিত করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক নৌ-যোগাযোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তার সুফল, মুক্ত বাণিজ্য প্রবাহ এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপানের এই কৌশলগত অংশীদারত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামরিক অস্থিরতার ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অস্থিরতার ফলে সৃষ্টি হওয়া চরম মানবীয় সংকট এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার বিশাল বোঝা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মিয়ানমারে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। রাখাইনে বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশে সাময়িকভাবে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ যে অভূতপূর্ব মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তাতে জাপানের নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক ও মানবিক সহায়তার উচ্চ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট সমাধান নিহিত রয়েছে মিয়ানমারের ভেতরেই। রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে নিজ মাতৃভূমিতে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রাখাইনে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাপানকে তার আন্তর্জাতিক প্রভাব ব্যবহার করে মিয়ানমার সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী পর্যায়ের 'যৌথ কমিশন' গঠন ও নতুন দিগন্তের সূচনা শীর্ষ বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-জাপানের এই বিশ্বস্ত সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই সম্মেলন দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের এক স্বর্ণালী ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই নতুন অধ্যায় পারস্পরিক সুদৃঢ় আস্থা, বর্ধিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিশাল অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং এশীয় অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে আরও শক্তিশালী হবে।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উভয় দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক কৌশলগত খাতগুলো চিহ্নিত করা, প্রকল্প ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে বাস্তবমুখী উদ্যোগে রূপ দেওয়ার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের 'মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন' (Ministerial Joint Commission) গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। এর পাশাপাশি, দুই দেশের শিল্পপতি, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
গঠনমূলক এই শীর্ষ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রগতি অর্জনের যৌথ অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে তাঁর সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একে অপরের প্রতি পরম আস্থা, অটুট সহযোগিতা ও যৌথ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধন আরও বহু দূরে প্রসারিত হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



