ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
টোকিওর ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল ইম্পেরিয়াল’-এ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে আলোচিত মূল বিষয়সমূহ:
জাইকার ভূমিকার প্রশংসা: প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় জাইকা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফল আলোচনার কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের ভৌত অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক রূপান্তরে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প: দুদেশের সহায়তায় পরিচালিত মেগা প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সহজ শর্তে ঋণ ও বাজেট সহায়তা: বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো বাজেট সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি নতুন প্রস্তাব:
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান ৩টি কৌশলগত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়:
বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
দেশে একটি আধুনিক ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ (Technological Village and Innovation City) প্রতিষ্ঠা করা।
কৃষি আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব যৌথ উদ্যোগ দুদেশের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।
প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন: বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও রেহান আসিফ আসাদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জাইকার পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



