ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা, গাজায় দীর্ঘ সামরিক অভিযান, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন তিনি।
নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তীব্র। তবে কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত নয়।
ক্ষমতায় টিকে থাকার কঠিন পরীক্ষা
দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন নেতানিয়াহু। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান এবং দেশটির খণ্ডিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও জোট গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তাঁর রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ট্রাম্পের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক প্রচারণায় ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের আশ্রয় নিচ্ছেন।
আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিরোধী জোট
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সমন্বয় নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আইজেনকোটও ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রচলিত ইসরায়েলি মূলধারার রাজনীতির বাইরে নন। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সমালোচনা করেছেন এবং নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।
সরকার গঠনে ডানপন্থীদের ভূমিকা
ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে না-ও পৌঁছাতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের জন্যও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সহজ হবে না। ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং আরব দলগুলোর সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকা নির্বাচনের ফল ও সরকার গঠনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইজেনকোট অবশ্য আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলো বাইরে থেকে কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরি হতে পারে।
দুর্নীতির মামলা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির বিচারও নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে এই মামলা তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও জনসমর্থনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
শালোম হার্টম্যান ইনস্টিটিউটের ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমোৎজ আসা-এলের মতে, নির্বাচনে যে পক্ষই এগিয়ে থাকুক না কেন, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব সামান্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বড় ব্যবধানে কোনো পক্ষের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; এটি নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কোন রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নেরও পরীক্ষা। তবে নির্বাচনের ফল এবং পরবর্তী জোট আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থাকছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



