ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসসহ রাসেল আহমেদ (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। (এপিবিএন)। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকালে বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনাল এলাকায় বিশেষ অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী ক্যানোপি–১ এর বাইরের পাকা সড়কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন রাসেল আহমেদ। ওই সময় বিমানবন্দর এলাকায় দায়িত্বরত এপিবিএনের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কৌশলে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন।
আটকের পর তাকে এপিবিএনের অফিসে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা একটি কাঁধব্যাগের ভেতর থেকে ৪৯৮ দশমিক ৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ৬টি মোবাইল ফোন এবং ৩টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারগুলোর মান ২১ থেকে ২২ ক্যারেট বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা। উদ্ধারকৃত সব মালামাল জব্দতালিকা তৈরি করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রাসেল আহমেদ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে এসব স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করে তিনি এসব মালামাল সংগ্রহ করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
পুলিশের ধারণা, আন্তর্জাতিক রুটে আসা যাত্রীদের একটি অংশকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রটি স্বর্ণ ও মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেশে প্রবেশ করিয়ে থাকে। এরপর বিমানবন্দর এলাকা থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে সেগুলো সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। আটক রাসেল আহমেদ সেই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় রাসেল আহমেদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ উপায়ে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালংকার দেশে আনয়ন ও নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ২৫ বি এর ১ (বি) ধারায় অপরাধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, অপারেশনাল কমান্ডার ও পুলিশ সুপার, এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএন সব সময় সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এসব অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সদস্যরা নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। আমরা যেকোনো ধরনের চোরাচালান রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বিমানবন্দর ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা বাড়ছে। তবে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি জোরদার করার ফলে প্রায়ই এসব চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ছে এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার হচ্ছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



