ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক ও সন্ত্রাসবাদ মামলায় নিকোলাস মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বিচারককে বলেছেন, ‘আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।’
এদিকে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনী নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার সময় সিলিয়া ফ্লোরেস আহত হন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের একটি আদালতে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা দখল নয়, দেশটির নীতির লাগাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মাদুরোকে তোলা হলো মার্কিন আদালতেগতকাল সোমবার মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আদালতে নেওয়ার নাটকীয় ছবি প্রকাশ করেছে বিবিসি। ছবিতে দেখা গেছে, মাদুরোকে হাতকড়া পরিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তাঁকে পাহারা দিয়ে রেখেছে সশস্ত্র কর্মকর্তারা। মাদুরোর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। মাদকপাচার ও অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। আদালতে নেওয়ার আগে ম্যানহাটানে একটি হেলিকপ্টার থেকে নামানো হয় মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে।
তাঁদের হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে কড়া পাহারায় আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় মাদুরোকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। গত শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে। পরে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কারাগারে নিয়ে রেখেছিল। সেখান থেকেই সোমবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় প্রাধান্য বিস্তারে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে যেভাবে কাজে লাগাচ্ছেন, তা বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। তবে কারাকাসে সামরিক হামলার পরও বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়েনি; বরং কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কারাকাসে নজিরবিহীন সামরিক সাফল্যের ঘটনাটি মার্কিন অধিপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাহসী করে তোলায় তিনি কিউবা, কলম্বিয়া ও ব্রাজিলকে সরাসরি হুমকি দিয়ে থেমে থাকেননি, ডেনমার্কের মালিকানাধীন গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে বলে দিয়েছেন, ‘ওই দ্বীপটি আমাদের লাগবে।’ তবে এই গ্রহবাসীর চোখ এখন গেঁথে আছে নিকোলাস মাদুরোর ভেনেজুয়েলায়। কারণ ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এখন থেকে ভেনেজুয়েলা চালাবেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ব্যাখ্যাটা গত রবিবার পরিষ্কার করেছেন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, মানুষ ট্রাম্পের ‘চালানো’ সংক্রান্ত মন্তব্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অর্থ দেশ চালানো নয়, বরং ভেনেজুয়েলার নীতিগুলো কিভাবে চলবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা।’ বিষয়টিকে খোলাসা করে রুবিও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবীয় সাগরে ট্রাম্পের মোতায়েন করা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নৌবহর সেখানে অবস্থান করবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের আয়ের মূল উৎসকে পঙ্গু করে দেওয়া। যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজন হয়, তবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আরো সৈন্য পাঠাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট কোনো বিকল্পকেই বাদ দিচ্ছেন না। রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চাপ বজায় রেখে জ্বালানি তেলের ওপর সামরিক ‘কোয়ারেন্টাইন’ বা অবরোধ বজায় রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাদুরোর অনুসারীদের মাধ্যমে পরিচালিত বর্তমান সরকারকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হবে।
রুবিও বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে বা বের হতে বাধা দেবে মার্কিন বাহিনী। এই বাধা ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না ভেনেজুয়েলা তাদের তেলশিল্প বিদেশি বিনিয়োগের (বিশেষ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান) জন্য খুলে দিচ্ছে। রুবিও বলেন, ‘এই অবরোধ জারি থাকবে এবং এটি আমাদের জন্য বিশাল এক শক্তির জায়গা। এটি ততক্ষণ বজায় থাকবে যতক্ষণ না আমরা সেখানে পরিবর্তন দেখছি, যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য এক উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রুবিও মূলত ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রবিবার দ্য আটলান্টিককে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ যদি ‘সঠিক কাজ না করেন, তবে তাঁকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।’
ট্রাম্প ও রুবিও দুজনই ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদকে তাঁদের মূল নিশানা হিসেবে দেখিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা সেখান থেকে প্রচুর সম্পদ আহরণ করব।’ আর রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা তেলশিল্পে আবার বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। দেশটির নিজেদের এই শিল্প পুনর্গঠন করার ক্ষমতা নেই। তাই তাদের বেসরকারি কম্পানির বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
যে কারণে তেলের দাম কমছে : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্সের সেনারা আটকের পর থেকে তেলের দাম কমছে। সোমবার ৫ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে সেটি বিশ্বের অন্যান্য জায়গার সরবরাহ থেকে খুবই সহজেই কাটিয়ে তোলা যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর একটি বড় মাপের বিমান হামলা চালানোর পরও বিশ্বে তেলের বাজার খুব একটা নড়েনি। অল্প সময়ের জন্য প্রতি ব্যারেল ৭৯ পাউন্ডে উন্নীত হয়, তারপর কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধপূর্ব স্তরের নিচে নেমে আসে।
গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের পর সাহসী হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন তিনি ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান। এমন ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন’। রবিবার ৪ জানুয়ারি রাতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের সব জায়গায় চীনা আর রুশ জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন, সিবিএস, গার্ডিয়ান, বিবিসি
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



