ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখন আইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, করের আওতা বাড়ানো এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে এখন আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব আইনের খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি আইনের মধ্যে রয়েছে— ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘অর্থ আইন (২০২৫-২৬ অর্থবছর), ২০২৬’, ‘অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (সংশোধন) (২০২৫-২৬ অর্থবছর) আইন, ২০২৬’, ‘দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’। এসব আইনের খসড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর খসড়া প্রণয়নের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কর অব্যাহতির সংস্কৃতি কমিয়ে আনা, ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি এবং হ্রাসকৃত করহার ধাপে ধাপে সমন্বয় করে আদর্শ পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ সংশোধন করে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল।
তিনি জানান, গত বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে ওই অধ্যাদেশের আওতায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন সেটিকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘অর্থ আইন (২০২৫-২৬ অর্থবছর), ২০২৬’ এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কর অব্যাহতির প্রচলিত সংস্কৃতি থেকে সরে এসে রাজস্বের পরিধি বৃদ্ধি, কম হারের কর ধাপে ধাপে সমন্বয় করে একটি আদর্শ কর কাঠামো গড়ে তোলা এবং নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনে সংশোধন আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; আয়কর আইন, ২০২৩ এবং কাস্টমস আইন, ২০২৩।
এই আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের জন্য গত বছরের ২ জুন ‘অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৬ ও অনুচ্ছেদ ৮৭ অনুযায়ী এ অধ্যাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই সময় থেকে এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, ‘অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (সংশোধন) (২০২৫-২৬ অর্থবছর) আইন, ২০২৬’ এর খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে জারি করা অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনের উদ্দেশ্যে ‘অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গত বছরের ২৬ জুন জারি করা হয়েছিল। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৬ ও ৮৭ অনুযায়ী এই অধ্যাদেশও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং গত বছরের ২৬ জুন থেকে এর আওতায় রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে ‘দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর খসড়া অনুমোদনের বিষয়েও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পুরোনো আইন ‘দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৪’ সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ জানুয়ারি ‘দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন সেটিকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর আরও কিছু ধারা সংশোধনের জন্য ‘অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গত বছরের ৬ অক্টোবর জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৬ ও ৮৭ অনুযায়ী এই অধ্যাদেশও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে এর ভিত্তিতে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অধ্যাদেশগুলো জারির পর থেকে কার্যকর থাকলেও স্থায়ী আইন হিসেবে প্রণয়ন না করা পর্যন্ত সেগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন হয়। সে কারণেই এখন সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব আইন কার্যকর হলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি করের আওতা বাড়বে, কর আদায়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতাও বাড়বে। এর ফলে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



