ছবি: সংগৃহীত
দেশে অনলাইনভিত্তিক আয়কর ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ লাখ করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পরিচালিত ই–রিটার্ন সিস্টেমে প্রায় ৫০ লাখ করদাতা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে করদাতারা তাদের আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য উল্লেখ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এনবিআর জানিয়েছে, যারা এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাদের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকলেও শেষ সময়ের চাপ এড়াতে আগেভাগেই রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর নির্ধারিত সময়সীমার শেষদিকে করদাতাদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সার্ভারে ধীরগতি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই করদাতাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে আগে থেকেই রিটার্ন দাখিলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর প্রশাসন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো করদাতা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য এনবিআরের ই–রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে নির্ধারিত অপশন ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে। তবে এই আবেদন অবশ্যই ৩১ মার্চের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যথাসময়ে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিতে পারে। এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে করদাতারা কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই তাদের রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, যা করদাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি করবর্ষে কর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
করদাতারা এনবিআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার কারণে করদাতাদের সময়, খরচ এবং ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে ই–রিটার্ন ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দেননি, যাদের দ্রুত এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক এই ব্যবস্থা করদাতাদের জন্য যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে এনবিআরের বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, ই–রিটার্ন ব্যবস্থায় করদাতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়াকে দেশের কর ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল কিংবা প্রয়োজনে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে করদাতাদের কর সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



