ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানো, বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং অখালাস অবস্থায় পড়ে থাকা পণ্যের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করার লক্ষ্যে বড় পরিসরের নিলাম কার্যক্রম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এর অংশ হিসেবে অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য বিভিন্ন ধরনের পণ্যসম্বলিত মোট ৩৭৮টি কন্টেইনার ই–অকশন (E-Auction) পদ্ধতিতে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকারকের মাধ্যমে খালাস না হওয়া এসব পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকায় বন্দরে কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি ভৌত নিরাপত্তা, আর্থিক ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসন এবং বন্দরের সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে অখালাস পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে মার্চ ২০২৬ মাসে বড় পরিসরে নিলাম আয়োজন করা হয়েছে। নিলামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ই–অকশন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আগ্রহী ব্যবসায়ী ও বিডাররা সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত বিশেষ আদেশ নং–৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী ই–অকশন–২/২০২৬ এর আওতায় মোট ৪৯টি লটে ১৮০টি কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কন্টেইনারে থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মেশিনারিজ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স, হাউজহোল্ড আইটেমস, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ নানা ধরনের সামগ্রী।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ই–অকশন–২/২০২৬ এর আওতায় যেসব পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সংরক্ষিত মূল্য (Reserved Value) নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বাজারমূল্যের ভিত্তিতেই এসব পণ্য বিক্রি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অপরদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত স্থায়ী আদেশ নং–৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুসারে ই–অকশন–৩/২০২৬ এর আওতায় আরও ৭৪টি লটে মোট ১৯৮টি কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, মেটাল স্ক্র্যাপ, ক্রাফট লাইনার পেপার এবং অন্যান্য শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত নানা ধরনের সামগ্রী।
কাস্টমস হাউস সূত্রে আরও জানা গেছে, নিলাম কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আগ্রহী বিডাররা অনলাইনে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই নিলামে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পুরো মার্চ মাসজুড়ে সম্ভাব্য বিডারদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এতে করে আগ্রহী ক্রেতারা নিলামে অংশ নেওয়ার আগে পণ্যের প্রকৃতি ও অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে পারবেন।
নিলামে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই–অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বিড দাখিল করা যাবে। তবে অনলাইনে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে–অর্ডার এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্তাবলি অনুসরণ করে পণ্যসমূহ খালাস গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিলাম জয়ের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।
নিলাম কার্যক্রমের সময়সূচি অনুযায়ী, ই–অকশন–২/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে এবং একই দিন তা উন্মুক্ত করা হবে। অন্যদিকে ই–অকশন–৩/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টায় খোলা হবে।
নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী বিডারদের বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই–অকশন পোর্টাল ভিজিট করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই বড় পরিসরের নিলাম কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অখালাস পণ্য দ্রুত সরানো সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন বন্দরের কন্টেইনার জট কমবে, অন্যদিকে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কন্টেইনার জট কমিয়ে আনতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। এর ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



