ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সময় পাওয়ার সুযোগ থাকছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত থাকলেও, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে করদাতারা আরও সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সোমবার (১৬ মার্চ) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যদি কোনো করদাতা লিখিতভাবে আবেদন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার তার আবেদন বিবেচনা করে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দিতে পারেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি এখন পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে, যাতে করদাতারা সহজেই এই সুবিধা নিতে পারেন। করদাতারা এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে “Time Extension” অপশন ব্যবহার করে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন বা নামঞ্জুর করবেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
কর প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক সময় ব্যক্তিগত, আর্থিক বা অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই করদাতাদের জন্য এই সময় বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত হলো—নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে সাধারণত এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
এছাড়া এনবিআর আরও জানিয়েছে, সময় বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদিত হলে করদাতারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের জরিমানা বা অতিরিক্ত করের বোঝা ছাড়াই তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের বাইরে গিয়েও তারা আইনগত জটিলতা বা আর্থিক জরিমানার ঝুঁকি ছাড়াই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা করদাতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয়।
এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ করবর্ষে ই-রিটার্ন ব্যবস্থার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ করদাতা ইতোমধ্যে তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ফলে এখনো প্রায় ৯ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় অনেক করদাতা একসঙ্গে রিটার্ন জমা দিতে গেলে সার্ভারে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে এবং করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বৃদ্ধির এই সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর ফলে করদাতাদের অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে, তেমনি কর প্রশাসনের কার্যক্রমও আরও গতিশীল ও আধুনিক হয়েছে। সময় বৃদ্ধির এই সুবিধা করদাতাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে এবং যারা এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।
সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে অতিরিক্ত তিন মাস সময় পাওয়ার সুযোগ থাকায় করদাতাদের এখনই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রিটার্ন দাখিল বা সময় বৃদ্ধির আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



