ছবি: সংগৃহীত
এক দশকের বেশি সময় পার হলেও বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হচ্ছে না। ২০১৬ সালে দলটির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এরপর নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় আর কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। এরই মধ্যে পাল্টেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের নেতৃত্বে এসেছে পরিবর্তন, মৃত্যু ও পদত্যাগে শূন্য হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ। রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার পর এখন দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থায়ী কমিটির বৈঠক আলোচনা করলেও দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেননি।
নেতাকর্মীদের মধ্যে কাউন্সিল নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল আছে। কিন্তু চলতি বছরে জাতীয় কাউন্সিলের কোনো সম্ভাবনা দেখেন না বলে জানিয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।
রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার পর বিএনপির কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা নতুন গতি পায়। গত এপ্রিল মাসে দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, কাউন্সিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
পরে আগস্টে দলটির নেতারা জানান, কাউন্সিলের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেপ্টেম্বরেও সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও প্রস্তুতি, তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরে মনে হয় কাউন্সিল করা সম্ভব হবে না। কাউন্সিল করতে গেলে যে প্রস্তুতি লাগে তা এই সময়ের মধ্যে করা সম্ভব হবে না।
ফলে তা ডিসেম্বরের পরে চলে যাবে।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, বিএনপি বড় দল। জাতীয় কাউন্সিল করতে গেলে ন্যূনতম একটা সময় লাগে। দলের কেউ কেউ বলছেন, দলের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাউন্সিল করাটা জরুরি। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয় জাতীয় কাউন্সিলে পদায়নের মাধ্যমে। তাই দলের নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন এবং তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিধান রয়েছে। সেই হিসাবে ২০১৯ সালেই সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আর হয়নি। জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে স্থায়ী কমিটিতে শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি আলোচনার বিষয় হচ্ছে দলের মহাসচিব পদ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় রুহুল কবীর রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কাউন্সিল তো হওয়া উচিত। দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ডিসেম্বরের আগে হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উদ্যোগ নিলে প্রস্তুতি নিতে খুব বেশি সময় লাগবে না।’
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিল শিগগিরই করার পরিকল্পনা আছে। কাউন্সিল তো একটা পুনর্মিলনী। নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা উদ্দীপনা তৈরি করে। হাইপ তৈরি করে। কাউন্সিলের জন্য একটা প্রস্তুতি আমাদের আছে। কিন্তু এটা বাস্তবায়িত করার জন্য দলের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক কিভাবে চলছে, সেটা এই মুহূর্তে ঠিক আমি বলতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘একটা শর্ট নোটিশের মাধ্যমে শুধু কাউন্সিলরদের ডেকেও একটা সম্মেলন হতে পারে ডিসেম্বরে। শুধু কাউন্সিলরদের নিয়েও কাউন্সিল করা যাবে। আমাদের বর্তমান দলীয় চেয়ারম্যান যেহেতু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন সরকারে অনেকগুলো বোঝা পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে, এই দিকটাতে উনার বেশি সময় দেওয়া লাগছে। কারণ দলের আগে তো দেশ, তার পরে তো দল। তবে শুধু কাউন্সিলরদের ডেকে একটা সম্মেলন করা যেতে পারে।’
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিলের টার্গেট ছিল। আমাদের প্রস্তুতিও চলছে। এখন মনে হচ্ছে একটু সময় লাগবে। দেখা যাক, দলের হাইকমান্ড থেকে কী নির্দেশনা আসে।’
উল্লেখ্য, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে এখনো তিনটি শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের ৮২টি কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে জাতীয় কাউন্সিলের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শূন্যপদ পূরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পুনর্গঠন এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



