ছবি: সংগৃহীত
সরকারকে সতর্ক করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই না আপনাদের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিস্টদের মতো হোক। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, তাহলে সারা দেশের মানুষই জুলাইযোদ্ধা—তারা আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
গত সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরায় নিজ এলাকায় স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা বলছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আমরা তা বলি না।
আমাদের ভিন্ন মত আছে। তবে দেশ অচল না হোক—এই বিবেচনায় আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাত্র দেড়-দুই বছর আগে হয়েছে। সেই সময় আপনারাও নির্যাতিত ছিলেন, আমরাও ছিলাম।
এত দ্রুত তা ভুলে গেলেন কেন? দীর্ঘদিনের জুলুম-বঞ্চনার পর মুক্তির স্বাদ পেয়েও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন না কেন?’
রাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের অর্থ কারো বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। ক্ষমতায় বসে ইচ্ছামতো ব্যবহার, চাঁদাবাজি, অপরাধ বা লুটপাট—এসব মানুষ দেখতে চায় না। সরকার জনগণের সম্পদের ব্যবস্থাপক, মালিক নয়। সরকার যদি ব্যবস্থাপকের ভূমিকা ভুলে মালিক হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা তা হতে দেব না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন প্রশাসক বসানো হচ্ছে কেন? নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই জনসমর্থন নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসকদের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে না। তাই অনতিবিলম্বে সব স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে।’
ঈদযাত্রায় অব্যবস্থাপনা ও ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘যাত্রীরা টিকিট কিনতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। মানুষ যে আনন্দ নিয়ে বাড়ি যায়, সেটি নষ্ট হয়ে গেছে।
এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের অতিরিক্ত ভাড়া কিভাবে ফেরত দেওয়া হবে?’
জনগণের সঙ্গে ‘ধোঁকাবাজি’ বন্ধের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। দেশের মানুষ এখন সচেতন।’
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের ৭৭ জন এমপি প্রত্যেকে জাতির চৌকিদার। আমিও একজন চৌকিদার। আমরা জনগণের অধিকার পাহারা দেব। সরকার পাঁচ বছর থাকলে পাঁচ বছরই আমরা এই দায়িত্ব পালন করব।’
সরকারের দেওয়া বাসা ও গাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে গাড়ি ও বাড়ির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি গাড়ি নেব না। বাড়িটি রাষ্ট্রীয় কাজ, বিদেশি অতিথি ও বিভিন্ন দেশের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহার করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করতে হয় না। আমরা সরকারের মুখে শুনতে চাই—বাংলাদেশে আর চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম হবে না। সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে আমরা সহযোগিতা করব। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করব, প্রয়োজন হলে প্রতিহত করব।’
এর আগে গত শনিবার ঈদের দিন রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া ইউএনডিপি, ইউনেসকো, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছাবিনিময় শেষে অতিথিদের বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
এদিন সকালে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন জামায়াতের আমির।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



