ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ৫ আগস্ট ২০২৪-সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গেছেন।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান লিখেছেন, পতিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি; বরং এখন তিনি যা বলছেন, সেদিন তা বলেননি।
তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষ যা শুনেছে, সেদিন তিনি যা বলেছেন এবং এখন যা বলছেন—তার হিসাব তিনি জাতির সামনে মিলিয়ে দেবেন কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
আওয়ামী লীগের অফিস খোলা নিয়ে উদ্বেগ : এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর অফিস খুলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল এবং তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ এখতিয়ার নেই। শাসক দলের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তাদের প্রত্যাশাকে উসকে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এতে আরো বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে এবং অতীতের জুলুম-নির্যাতন ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরকার ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সুযোগ দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের জনগণকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহবান জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা : পৃথক বিবৃতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায় জামায়াতে ইসলামী।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন—তোফায়েল (বাংলা নিউজ), আকাশ (এনপিবি নিউজ) ও কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, আহত সাংবাদিকরা পেশাদারির সঙ্গে লাইভ সম্প্রচার করছিলেন, যা গণমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতা ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকারের অংশ। পুলিশের এ ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে নির্যাতনের ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক ঠিকাদারকে নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, গত শুক্রবার ঠিকাদার নিজাম উদ্দিনকে ইফতারের পর মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন করা হয়।
এ ঘটনায় দেশে নতুন করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশবাসী অবগত যে সদ্যঃসমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিল সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়া। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই আবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের দেখানো পথেই অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আওয়ামী লীগের পতন থেকে কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেনি।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি : ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “জনগণ ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সেনা হত্যার নির্মম ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চায়। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দেশপ্রেমিক সব সেনা হত্যার ‘প্রকৃত রহস্য’ উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি। যেসব নিরীহ-নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে আটক আছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি এবং যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে সারা দেশে দলীয় শাখা সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের আহবান জানানো হয়েছে।
ইফতার অনুষ্ঠানে যাত্রাপথে অসুস্থ বিরোধীদলীয় নেতা : প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেন, ‘আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন। হঠাৎ যাত্রাপথে তিনি বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। সবাই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।’
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন উনাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।’
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



