ছবি: সংগৃহীত
যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করব না জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা গর্বের সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারে। এ ছাড়া মা-বোনদের জন্য ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুর-১০ ফলপট্টিতে ঢাকা–১৫ আসনে নিজের নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পথসভায় জামায়াতের আমির অঙ্গীকার করে বলেন, জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে সম্পদ গড়া হবে না। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না, বরং বাংলাদেশকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য উন্নত উর্বর ভূমি হিসেবে পরিণত করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাও এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে বেকার নয়, বরং দক্ষ ও গর্বিত নাগরিক তৈরি হয়।
তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিটি টাকার হিসাব আয়নার মতো স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
এই হিসাব চাওয়ার পূর্ণ অধিকার জনগণের রয়েছে এবং জনগণ সেই অধিকার প্রয়োগ করে চাইলে হিসাব আদায় করে নিতে পারবে। জনপ্রতিনিধি ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনগণের কাছে জমা দিতে হবে। এতে কোনো অসংগতি থাকলে জনগণ সহজেই তা ধরতে পারবে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, আমি নিজেও কোনো অন্যায় করলে আমাকেও যেন ছাড় না দেওয়া হয়।
দুর্নীতি বা সমাজের কোনো অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ছোটখাটো চোর নয়, বরং দুর্নীতির মূলে যারা আছে, তাদের নির্মূল করাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজ ঠিক করতে হলে কোনো মামা খালুর টেলিফোন চলবে না, বরং দুর্নীতির দায়ে কঠিন বিচার করা হবে। অপরাধী যদি নিজের বাবা, ভাই কিংবা স্ত্রীও হন, তবুও তাকে শাস্তি পেতে হবে।
এ সময় জামায়াতের আমির ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে কেউ টাকা আদায় করতে পারবে না।
ডা. শফিকুর রহমান মিরপুর ও কাফরুল এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বলেন, এই এলাকার পচা খাল, খোলা নর্দমা, ভাঙা রাস্তা, শিশুদের খেলার মাঠের অভাব, বৃদ্ধদের হাঁটার জায়গা না থাকা এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বড় কষ্টের কারণ।
আল্লাহ যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আমানত হিসেবে দেন, তবে জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
জামায়াতের আমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যদি কেউ দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে, তাহলে তাকে জনগণের সামনে এনে বিচার করা হবে। লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির বাংলাদেশ গড়া, যেখানে নারী-পুরুষ কেউ অপমানিত হবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি দল নিজ নিজ আদর্শ ও কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবে এবং জনগণের রায়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখবে। জোর করে ভোট নেওয়া বা যেকোনো মূল্যে জয়ী হওয়ার রাজনীতি করব না। আমার প্রত্যাশা, আপনারা দেশের মানুষ সংস্কার ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জাতির কাছে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে জামায়াত। ভবিষ্যতেও করবে। এসময় তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে জয়ী না হলেও জনগণের পাশে থাকব। স্বৈরাচারী শক্তি ফিরে এলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
এর আগে, ঢাকা-১৫ আসনের উত্তর কাফরুল, পূর্ব কাফরুল, মনিপুরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর-১৩ এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী পথসভা করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



