ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর আঘাত আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও বাস্তবে তারা আন্তরিক নয়। জামায়াতে ইসলামী পুরো জাতিকে বিজয়ী করতেই রাজনীতি করছে।
‘হ্যাঁ’ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, ‘না’ ভোটে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। এ জন্য সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং পরে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান জানাই।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা হবে।
নারীদের হাতে শুধু ফ্যামিলি কার্ড তুলে না দিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’
যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে প্রথম জেলা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম হানাদারমুক্ত জেলা যশোরের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো দলের নয়, জনগণের পক্ষে থেকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ প্রমুখ।
‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নয়, বরং বন্ধ মিল কারখানা চালু করার পাশাপাশি নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘দেশবাসী যদি আমাদের দায়িত্ব দেয়, আমরা জনগণের সঙ্গে বসে ডায়ালগের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করব।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অপেক্ষা করছে।
একটি গণভোট এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন, পরে ১১ দলের প্রার্থীদের ভোট দিন।” তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি; আমরা আজাদির পক্ষে।”
গতকাল বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউসে জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তৃতা করেন খুলনা-৬ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনের দেয়ালঘড়ির প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।
এ সময় জামায়াতের আমির খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৩ আসনে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা-২ আসনে অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দীর হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং খুলনা-৪ আসনে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের হাতে দেয়ালঘড়ি প্রতীক তুলে দিয়ে খুলনাবাসীকে তাঁদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
সাতক্ষীরার সঙ্গে সত্মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেবেন আর অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত দেবেন—এ কেমন ফ্যামিলি কার্ড? জালিমকে আড়চোখে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। কোথাও মায়েদের প্রতি কেউ অশালীন আচরণ করলে ছেড়ে দেব না।’ গতকাল দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না। আমরা যুবকদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে চাই।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কি কোনো অপরাধ করেছিল? বিগত দিনে উন্নয়নে দেশের মধ্যে একমাত্র সাতক্ষীরার সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে।’
বক্তব্যের শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের (জামায়াতের চারজন) পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি সাতক্ষীরা-১ আসনে জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ হাফেজ রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলামের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে উপস্থিত সবাইকে তাঁদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
দুর্নীতির শিকড় ধরে তুলে ফেলব
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি করব না, আমরা দুর্নীতির শিকড় ধরে তুলে ফেলব।’ তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রয়েছে এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।
গতকাল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আজ জামায়াতের পক্ষে অসংখ্য নারী মাঠে কাজ করছেন, রাজপথে নেমেছেন। কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন, জামায়াতে ইসলামীর হাতেই তাঁদের ইজ্জত ও জানমাল নিরাপদ থাকবে।’
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি শেখ কামরুল আলম প্রমুখ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ এবং বাগেরহাট-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



