ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে মানুষের রোগা হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ওজন পেতে অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের বদলে ঝুঁকছেন দ্রুত সমাধানের দিকে—ভুল অস্ত্রোপচার, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন কিংবা সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া বিভ্রান্তিকর পরামর্শের ওপর ভরসা করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ঘটনাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
এই প্রবণতার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে অনীহা। দ্বিতীয়ত, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও অতিরঞ্জিত তথ্য। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকান স্থূলতা বিশেষজ্ঞ ডা. স্পেন্সার নাদোলস্কি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন।
ওজন কমানোর লক্ষ্যে যারা অবিচল, তাদের জন্য এই বাস্তব তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। যদিও সত্য অনেক সময় মেনে নেওয়া কঠিন, তবু এগুলো বুঝলে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
ডা. নাদোলস্কির মতে, অনেক মানুষই শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। শরীরের গঠন, পেশির পরিমাণ, শক্তি কিংবা সামগ্রিক সুস্থতার কথা না ভেবে শুধুমাত্র একটি সংখ্যার পেছনে ছুটে বেড়ান তারা।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য কোনো স্কেলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।’ একজন মানুষ প্রতিদিন কেমন অনুভব করছেন, তার শক্তি, কর্মক্ষমতা, ল্যাব রিপোর্ট—এসবই নির্ধারণ করে আসল স্বাস্থ্য। শারীরিক ওজনের লক্ষ্যমাত্রা এমন হওয়া উচিত, যা শরীরের ক্ষতি না করে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়।
মেদ কমানোর কোনো জাদুকরী খাবার নেই
‘এই পানীয় খেলেই চর্বি গলে যাবে’ কিংবা ‘চর্বি গলানো সালাদ’—এ ধরনের শিরোনামে ভাইরাল রিল এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিত্যসঙ্গী। তবে বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যায়াম ছাড়া দ্রুত ওজন কমিয়ে দেওয়ার মতো কোনো জাদুকরী খাবার বা পানীয় এই পৃথিবীতে নেই।
ডা. নাদোলস্কির ভাষায়, ‘একমাত্র কার্যকর খাদ্য হল সেটিই, যেটা দিয়ে আপনি টিকে থাকতে পারেন।’ আদর্শ ডায়েট এমন হওয়া জরুরি, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। যে খাদ্য নিয়মিত ক্ষুধা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত খিদে তৈরি করে, তা কখনোই স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ওজন কমাতে সাহায্য করে না।
এই চিকিৎসক সতর্ক করেন, কঠোর ডায়েটের মাধ্যমে একবার ওজন কমিয়ে আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেলে আগের চেয়েও দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সাহায্য চাওয়া মানেই দুর্বলতা নয়
অনেকের জন্য ওজন কমানো সত্যিই কঠিন। কারো ক্ষেত্রে ওষুধ বা এমনকি অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে ডা. নাদোলস্কি বলেন, ‘GLP-1 ওষুধ নেওয়া কোনো প্রতারণা নয়, আর অস্ত্রোপচার করানো দুর্বলতার লক্ষণ নয়।’
তার মতে, সাহায্য চাওয়া মানে এই নয় যে কেউ যথেষ্ট চেষ্টা করেনি। বরং অনেক সময় শরীরের কিছুটা সহায়তা দরকার হয়। এই ধরনের চিকিৎসা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও দেখে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন বা মাত্রা বাড়ানো বিপজ্জনক। সব চিকিৎসারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পথে হাঁটা একেবারে অনুচিত।
সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



