ছবি: সংগৃহীত
সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারের সন্তান। আমাদের দায়িত্ব আছে।
সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা আরো শক্তিশালী করতে চাই। এবং যে কারণে দেশে সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়েছে, আমরা তা যেন পূর্ণ করতে পারি, ইনশাআল্লাহ। ভালো থাকবেন সবাই, আমরা যেন সকলে দেশের জন্য কাজ করতে পারি।’
দীর্ঘ ১৮ বছর পর রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শেষে সশস্ত্র বাহিনীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এবারের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সামরিক সক্ষমতার এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। এমন চমৎকার আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্যারেড স্কয়ার ত্যাগের সময় উপস্থিত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি জি, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
উল্লেখ্য, কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন।
গতকাল সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। দীর্ঘ দেড়যুগ পর আবারও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ফিরেছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে প্রদর্শিত হয় দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা। প্যারেডে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
ঘোড়ায় চড়ে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল কুচকাওয়াজ। এবারের কুচকাওয়াজে সাজোয়া, আর্টিলারি, সিগন্যালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী ও আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ করেন। সেই সঙ্গে বিমানবাহিনী বিভিন্ন কৌশলগত প্রদর্শনী তুলে ধরে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যান। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সুরা ফাতেহা পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।’
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করার পর খেলা দেখে বঙ্গভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান।
ক্রীড়া উন্নয়নে পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘স্বাধীনতার চেতনায় ফুটবল উৎসব’ শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকার ও নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল আয়োজিত এই উৎসবে দিনের শুরুতে যুব দল ও নারী দলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে মাঠে নামেন দেশের সাবেক তারকা ফুটবলাররা। সাবেকদের ম্যাচের আগে জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কন্যা জাইমা রহমান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে গড়া লাল ও সবুজ দলের সঙ্গে ছবি তোলেন প্রধানমন্ত্রী এবং ডাগআউটে বসে খেলা উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি। স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের ক্রীড়াজগতে নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং ক্রীড়াকে পেশাদার রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে—এমন খেলোয়াড় তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।’ একই সঙ্গে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে দেশের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে নিতে কাজ করার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



