ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি স্পট মার্কেট থেকে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দেশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুই কার্গো এলএনজি একইভাবে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজকের অনলাইন বৈঠকে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি কোম্পানি থেকে এলএনজি আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক কার্গো এলএনজি আসছে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার থেকে, যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২১.৫৮ মার্কিন ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুই কার্গো এলএনজি আনা হবে, যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২০.৭৬ মার্কিন ডলার। এক কার্গোতে থাকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি।
তিন কার্গো এলএনজি আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের ৫–৬ এপ্রিল এক কার্গো, ৯–১০ এপ্রিল এক কার্গো এবং ১২–১৩ এপ্রিল আরেক কার্গো এলএনজি আসবে দেশে। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আনতে ব্যয় হয়েছিল ১০ দশমিক ৩৭ ডলার। তার আগে ৪ মার্চ গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ২৮ ডলার দরে এক কার্গো এবং ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ২৩ দশমিক শূন্য ৮ ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরই এলএনজির দামের এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। হামলার আগে স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ছিল ১২ থেকে ১৫ ডলার। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যের একটি প্রণালি হচ্ছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট এলএনজির ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) নির্মিত সিদ্ধিরগঞ্জের ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৮ বছর ৬ মাস ৩ দিনের মেয়াদের লেভেলাইজড ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২১৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। একই বৈঠকে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে, যা কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা। তেল সরবরাহ করবে যশোরের মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস, ঢাকার মজুমদার প্রোডাক্টস, ঢাকার গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকার তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গাইবান্ধার প্রধান অয়েল মিলস। সরবরাহের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৯.২৫ টাকা থেকে ৭০.৭৫ টাকার মধ্যে।
ক্রয় কমিটির পাশাপাশি বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন মাগুরা টেক্সটাইল মিলকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি অর্থাৎ পিপিপি ভিত্তিতে চালু করার জন্য বেসরকারি অংশীদার চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



