ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি মসজিদে এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করতে এসে মোবাইল ফোন চুরির শিকার হয়েছেন কাস্টমস বিভাগের এক যুগ্ম কমিশনার। একই সময়ে ওই মসজিদে উপস্থিত আরও কয়েকজন মুসল্লির মোবাইল ফোনও একই চক্রের সদস্যরা চুরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ২০ থেকে ৮টা ২২ মিনিটের মধ্যে রাজধানীর খিলগাঁও সি ব্লক এলাকার খিলগাঁও সরকারি বাসভবন জামে মসজিদে এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন কাস্টমস বিভাগের ওই যুগ্ম কমিশনার। সে সময় তিনি খাকি রঙের একটি আলখাল্লা পরিহিত অবস্থায় মসজিদে ঢুকছিলেন। মসজিদে প্রবেশের ঠিক সেই সময়েই তার আলখাল্লার বাম পাশের পকেট থেকে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়।
চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটির দুটি আইএমইআই নম্বর রয়েছে—৩৫১৮৮৯৭২৬২৭৯৩০১ এবং ৩৫১৮৮৯৭২৭৮০৫৭৮১। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকজন নাম-পরিচয়হীন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি মসজিদ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের সহযোগিতায় মসজিদের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত চারজন সদস্যের একটি মোবাইল চোরচক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলে মসজিদে প্রবেশকারী মুসল্লিদের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল এবং সুযোগ বুঝে তাদের পকেট থেকে মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিচ্ছিল।
ফুটেজে সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজনকে কিছুটা শ্যাওলা সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। আরেকজনকে নীল রঙের পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তিকে হাতে লাল রঙের জায়নামাজ বহন করতে দেখা গেছে, যাকে এই চক্রের মূল চোর হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। আরও একজন সদস্যের উপস্থিতিও ভিডিওতে দেখা গেলেও তার পরিচয় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। মসজিদের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করলে তাদের বিস্তারিত পরিচয় ও চলাফেরার তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আরও জানা গেছে, একই সময়ে ওই মসজিদে উপস্থিত অন্তত চার থেকে পাঁচজন মুসল্লিও একই ধরনের চুরির শিকার হয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনও একই চক্রের সদস্যরা চুরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি একক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ বুঝে মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে মোবাইল ফোন চুরি করে আসছে কি না—সেই প্রশ্নও উঠেছে।
ভুক্তভোগী যুগ্ম কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মসজিদে অনেক মুসল্লির ভিড় ছিল এবং নামাজের সময় হওয়ায় সবাই ইবাদতে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগটিই চক্রের সদস্যরা কাজে লাগিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান, মসজিদে প্রবেশের সময় তার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়, যা তিনি তখন টের পাননি।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা সম্ভব হওয়ায় তাদের ছবি ও ভিডিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়।
এ ঘটনায় মসজিদ কর্তৃপক্ষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থানে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মসজিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক নজরদারি বাড়ানো হবে।
ভুক্তভোগীসহ অন্যান্য মুসল্লিরা আশা করছেন, সরবরাহকৃত ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ওই চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে এবং মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে সংঘটিত এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



