ছবি: সংগৃহীত
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১,১৮১ জন। নিহতদের মধ্যে ৪৩ জন নারী এবং ৪১ জন শিশু রয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নিহত হওয়ার ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন এবং নৌপথে ছয়টি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত ও এক হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৫৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, চার শিক্ষক, ৬৩ নারী, ৫৫ শিশু, দুই সাংবাদিক, দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪১.৭৪ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার কারণে, ৩৩.২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৭.১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬.৪৭ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.২২ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১.১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, দশমিক ৪৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ১১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা। এ ছাড়া সারাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও নছিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচলও একটা কারণ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



