ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানির প্রথম দিন গতকাল শনিবার ৫১ জন তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আপিল নামঞ্জুর হয়েছে ১৫ জন প্রার্থীর, তিনজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পেন্ডিং বা বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে এবং একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল দিনভর ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবার শুনানি হবে ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি চলবে।
গতকালের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, শুনানি করা ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫২ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর বা তাঁদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ১৫ জন প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনজন প্রার্থীর আপিল আবেদন বিবেচনাধীন রেখেছে কমিশন।
যে ৫২ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে ফেয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা- ৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ আসনে দলটির প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ, ময়মনসিংহ-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. মো. মাহবুবুর রহমানও রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নি অফিসাররা মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন। বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই বেশি বাদ পড়েন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহীরাও রয়েছেন।
রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা হয়।
গতকাল আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর তাসনিম জারা বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে আসলে খুব একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দেশে-বিদেশে সবাই অনেক শুভকামনা জানিয়েছেন, অনেকে দোয়া করেছেন। যখন রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলাম অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন, দোয়া করেছেন।
তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
পছন্দের মার্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি ফটবল প্রতীকের জন্য আবেদন করব।’
উল্লিখিত তিনজন ছাড়া আরো যে ৪৮ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তাঁরা হলেন—রংপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম বাসার, শরীয়তপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, নজরুল ইসলাম ও নূর মোহাম্মদ মিয়া, শরীয়তপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. আবদুল হান্নান, নরসিংদী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তাফা জামান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা, গাজীপুর-৩ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের হা. মা. মুফতি শামীম আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, ফরিদপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নূর উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির মো. খুরশিদ আলম, রাজশাহী-৫ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা, কুমিল্লা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, লালমনিরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সামা মো. রেদওয়ানুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানসুর, মাদারীপুর-২ আসনে মুহা. কামরুল ইসলাম সাইদ, বগুড়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শাহজান আলী তালুকদার, কুমিল্লা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবদুল হক আমীন, গাজীপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়েতুল্লাহ হাদী, ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহীন রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, চাঁদপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির হাবিব খান, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রাণী সরকার, পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে জাগপার আল রাশেদ প্রধান, নরসিংদী-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, মাগুরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, গাইবান্ধা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহাসিন, হবিগঞ্জ-১ আসনে জাসদের কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, বগুড়া-৬ আসনে বাসদের দিলরুবা, নরসিংদী-২ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নড়াইল-২ আসনে জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান, দিনাজপুর-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ, খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমীন), ঢাকা-১৮ আসনে বাসদের সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ ও স্বতন্ত্র মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ, গোপালগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া, ঝালকাঠি-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান খান এবং কক্সবাজার-৩ আসনে মো. ইলিয়াছ মিয়া।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, গতকালের শুনানিতে জাতীয় পার্টির ১২ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গতকাল আপিল শুনানি শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারা দেশে জাতীয় পার্টি থেকে ২৪৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আমরা আশাবাদী, আমাদের অন্য প্রার্থীরাও তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।’
যাঁদের আপিল নামঞ্জুর : যাঁদের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে তাঁরা হলেন—বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মুজিবুর রহমান শামীম, নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরীফুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলী, গোপালগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রনী মোল্লা, খুলনা-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছাদুল বিশ্বাস, ঢাকা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন ও জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, ঢাকা-১৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন হাওলাদার, কক্সবাজার-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ মিয়া, ব্রাহ্মবাড়িয়া-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুছা সিরাজী, খুলনা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর বউফ মোল্লা (শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন), নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের আজাবুল হক, পাবনা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের হোসানুল ইসলাম, কুমিল্লা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ ও নড়াইল-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জ্বল মোল্যা।
এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসারের যাচাইয়ে বৈধ স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ কে একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নানের করা আপলি মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে এস এ কে একরামুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
এ ছাড়া বিবেচনাধীন রয়েছে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন (ঋণখেলাপির অভিযোগ), পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু ও যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামানের আপিল আবেদন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



