ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ৪৪ বছর আগে যেখানটায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সমাহিত করা হয়েছিল, সেই জিয়া উদ্যানে স্বামীর বাঁ পাশে শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার কবরে সবার আগে নামেন বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ হাতে তিনি তাঁর মাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন।
কবরে শায়িত করার পর মায়ের কবরে সবার আগে মাটি দেন তারেক রহমান। এ ছাড়া তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ পরিবারের সদস্যরা কবরে মাটি দেন।
সেখানে কিছুটা দূরে অবস্থান করেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানসহ পরিবারের নারী সদস্যরা। দোয়া পড়ে একটি পাত্রে নেওয়া মাটিতে স্পর্শ করতে দেখা যায় তাঁদের।
এর আগে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে খালেদা জিয়ার জানাজা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে চারপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে অজস্র মানুষ জানাজায় শরিক হন।
এই মানিক মিয়া এভিনিউয়েই ১৯৮১ সালের ২ জুন খালেদা জিয়ার স্বামী তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল। পরে তাঁকে সমাহিত করা হয় জিয়া উদ্যানে।
জানাজা শেষে সংসদ ভবনের সামনে থেকে কড়া নিরাপত্তায় পতাকা শোভিত লাশবাহী গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার কফিন জিয়া উদ্যানের সামনে নেওয়া হয়। এরপর সেতুর কাছ থেকে কফিন কাঁধে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। কফিনের ঠিক পেছনে ছিলেন তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। বিকেল সাড়ে ৪টায় দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কবরে নেমে ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে নিজ হাতে মাকে সমাহিত করেন তারেক রহমান।
বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পর সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
এরপর রাষ্ট্রপতির পক্ষে খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল। তারপর প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল শ্রদ্ধা জানান। এরপর শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এরপর শ্রদ্ধা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
দাফন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দাফন শেষে প্রয়াতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের পর তারেক রহমানের কাছে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও তিন বাহিনীর প্রধানরা সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এই জানাজা মহা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ ছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারও তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে শেষবারের মতো গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে কফিনবাহী গাড়িটি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পৌঁছলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে লাল-সবুজ রঙের বাসে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা উপলক্ষে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বিদায়ে সরকার দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও গতকাল বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে সমগ্র দেশ এখন শোকাতুর।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



