ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের তাইজ শহরের ভয়াবহ স্বাস্থ্য পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। অবরুদ্ধ এই শহরটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ প্রায়রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
শহরটির এই বিপর্যস্ত অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন তাইজের গভর্নর নাবিল শামসান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি অবিলম্বে এই সংকট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।
গভর্নর নাবিল শামসান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাইজে ইতিমধ্যে ১২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও ৬৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অর্থাৎ, যেকোনো মুহূর্তে চিকিৎসাসেবার এই অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোও পুরোপুরি সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।
বর্তমানে যে হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র কোনো রকমে চালু রয়েছে, সেগুলো তাদের স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধপত্র এবং পর্যাপ্ত জনবলের তীব্র সংকটের কারণে এই সীমিত সেবাটুকুও টিকিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অবরোধের কারণে তাইজ শহরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গভর্নর জানান, অবরুদ্ধ এই শহরটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৯ হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার এসে আশ্রয় নিয়েছে।
হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক মানুষের এই চাপ পড়ার কারণে শহরটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি মানবিক পরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের অভাবে শিশু, নারী ও প্রবীণরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।
এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় থেকে তাইজবাসীকে রক্ষা করতে এবং স্বাস্থ্যখাতকে পুরোপুরি ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর শামসান।
তিনি অবিলম্বে শহরটির ওপর থেকে সব ধরনের অবরোধ তুলে নেওয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি অবরুদ্ধ মানুষের কাছে নির্বিঘ্নে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা ও ওষুধপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি নিরাপদ করিডর (Safe Corridor) প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



