ছবি: সংগৃহীত
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া দেশজুড়ে বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি গণমাধ্যম বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী দমন অভিযান চালিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে ইরানের ভেটেরান ও শহীদ ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ইসলাম অনুযায়ী ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এই তালিকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। বিবৃতিতে তাদের ‘নির্দোষ’ ভুক্তভোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী এই বিক্ষোভকে একটি ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মদদে সহিংস দাঙ্গার মাধ্যমে এই বিক্ষোভ ছড়ানো হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নামা হাজারো বিক্ষোভকারীকে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে, যাদের সবাই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এটি মোট মৃত্যুর সংখ্যা নয়, বরং প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
তাদের ধারণা অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
তবে নিহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ইন্টারনেট, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তা বন্ধ ছিল। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সঠিক তথ্য সংগ্রহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নেটব্লকস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সত্য আড়াল করার সব প্রচেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’ সংস্থাটির মতে, দমন অভিযানের প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেই ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভেটেরান ও শহীদ ফাউন্ডেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত অনেকেই ছিলেন নিরীহ পথচারী, যারা বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে মারা যান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, কিছু বিক্ষোভকারীকে ভিড়ের মধ্যে থাকা সংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গুলি করেছে।
তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ছাদ থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের চোখ লক্ষ্য করেও গুলি করা হয়েছে।
ভেটেরান ও শহীদ ফাউন্ডেশন বিবৃতিতে ইরানের তথাকথিত ‘শত্রুদের বিশ্বাসঘাতক হাত’-এর নিন্দা জানিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধী নেতৃত্বকে’ সহিংসতায় জড়িতদের সমর্থন, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
সূত্র : আলজাজিরা
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



