ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা হলফ করে কেউ বলতে পারছে না। দিন দিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ থাকায় দেশটির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে জানার সুযোগ কম। প্রাপ্ত তথ্যগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করারও সুযোগ নেই।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির সব প্রান্তে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য মতে, ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৬২ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত দুই হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেডলাইন’ ঘোষণা করেছে। গতকাল শনিবার পৃথক বিবৃতিতে এই রেডলাইন ঘোষণা করেছে আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী। গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গত দুই রাত ধরে সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখলের চেষ্টা করছে, বেশ কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মীকে হত্যা করেছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ইসলামী বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নিরাপত্তার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেডলাইন’ ঘোষণা করছে।
রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতির চেষ্টা করলেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সবচেয়ে বড় হুমকি ওয়াশিংটন নয়। বরং ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে জেন-জি প্রজন্ম, যারা মাথা নত করতে শেখেনি। স্মার্টফোনধারী এসব কিশোর-কিশোরী দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। ইরানি শাসককুল এই জেন-জি প্রজন্মের মনে দোলা দিতে পারেনি।
দেশটির জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি ৩০ বছরের কম বয়সী। ১৯৭৯ সালে তারা মিছিল করেনি। লাল জ্বলন্ত চোখ নিয়ে তারা কেবল চরম ব্যর্থতা দেখতে পায়। তারা মনে করছে, ক্ষমতাসীন ধর্মীয় অভিজাতরা চুলের ফ্যাশন নিয়ন্ত্রণ করতে শিখলেও তরুণ প্রজন্মের মনের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে শেখেনি। বেকারত্বের লাগামও টানতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা চলমান গণবিক্ষোভকে প্রজন্মগত বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন। তবে এই বিদ্রোহে যে বিদেশি ইন্ধন নেই, তাও হলফ করে বলা যাচ্ছে না।
তবে এটা বলা যেতে পারে, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ রাখার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ইরানের শাসকরা বিপদ বুঝতে পেরেছেন এবং তাঁরা আতঙ্কিত। এ কারণেই তাঁরা ত্রাণের চেয়ে দমন-পীড়নে বেশি অর্থ এবং সময় ব্যয় করছেন।
পরিস্থিতি বেসামাল, উত্তাল ইরান : যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভরা একটি বছর শেষ হওয়ার পরই নতুন করে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের প্রথম দিনগুলো পর্যন্ত রাজধানী তেহরানসহ মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একাধিক শহরে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেছে, তা আবারও দেশটির শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ : ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৬২ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ইরানের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, মেট্রো স্টেশন, ব্যাংক ছাড়াও বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে সরকার। ইন্টারনেট না থাকায় পরিস্থিতির পুরো চিত্র গণমাধ্যমে আসছে না বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বার্তা সংস্থা।
সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স, এপি, মিডল ইস্ট মিরর
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



