ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন আফ্রিকান অভিবাসী জোহরান মামদানি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মীরা নায়ারের ছেলে জোহরান মামদানি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে নগরীটির মেয়র হলেন। তিনি নগরীটির ইতিহাসে ১৮৯২ সালের পর সবচেয়ে কম বয়সী, প্রথম মুসলিম এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম মেয়র। বাবা মাহমুদ মামদানিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন গবেষক।
আর মামদানির স্ত্রী ব্রুকলিনের শিল্পী রামা দুয়াজি একজন সিরিয়ান-মার্কিন নাগরিক।
নির্বাচনের আগে মার্কিন সমাজের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা প্রভাবশালী প্রার্থীদের বিবেচনায় জোহরান মামদানিকে এক পাশে ঠেলে দিয়েছিলেন ‘তরুণ’ ও ‘অনভিজ্ঞ’ ট্যাগ দিয়ে। কিন্তু সাবলীল অথচ দৃঢ়তার সঙ্গেই তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবী বদলাতে বয়স বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় অদম্য ইচ্ছার।
’ মামদানির কথাই শেষ পর্যন্ত টিকল। হাডসন নদীতে এখন শুধু মামদানি জোয়ার। যে জোয়ারের প্রাবল্য দেখে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও কিছুটা কেঁপে উঠেছেন। জোহরান মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন।
সেখানে তিনি ব্রংকস হাই স্কুল অব সায়েন্সে পড়াশোনা করেন এবং পরে বোওডেন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি পান। তিনি ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’-এর ক্যাম্পাস শাখার একজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি সবদিক দিয়েই অনন্য। তাঁকে নিয়ে বিবিসি লিখেছে, গত বছর যখন তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হলেন, তখন খুব কম লোকই তাঁকে চিনত। তাঁর তহবিল ছিল যৎসামান্য, রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাও তিনি পাননি।
তার পরও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে তাঁর এই বিজয় এক অনন্য ঘটনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, মামদানি সেই ধরনের রাজনীতিবিদ, যাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী অংশ বহুদিন ধরে খুঁজে আসছে। মামদানি কম বয়সী, কারিশমাটিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারদর্শী এবং জাতিগত পরিচয়ে তিনি বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি। বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা, গণপরিবহন সম্প্রসারণ এবং বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের মতো বামপন্থী নীতিগুলোর পক্ষে সরব মামদানি শ্রমজীবী শ্রেণির অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো নিয়েও সরাসরি কথা বলেছেন, যে শ্রেণির অনেকেই সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে সরে গেছেন। সমালোচকদের কেউ কেউ বলেছিলেন, আমেরিকার বর্তমান বাস্তবতায় এমন প্রার্থী নির্বাচনে টিকতে পারবেন না। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটি সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
সূত্র : বিবিসি, গার্ডিয়ান, এবিসি নিউজ
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



