ছবি: সংগৃহীত
পানির বোতলে ব্যবহৃত মাইক্রোপ্লাস্টিক অগ্ন্যাশয়ের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
বিএমসি জিনোমিক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, পলিথিন টেরেফথালেট (পিইটি) নামক ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করে অগ্ন্যাশয়ের কোষের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে।
গবেষকরা এই পরীক্ষার জন্য শূকর বেছে নিয়েছিলেন, কারণ মানুষের বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং অগ্ন্যাশয়ের গঠনের সঙ্গে এদের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে প্রাণীদের ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের কম এবং বেশি—উভয় ধরনের মাত্রার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই প্লাস্টিক কণাগুলো অগ্ন্যাশয়ের প্রোটিন স্তরে পরিবর্তন ঘটায়। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার সংস্পর্শে ১৭টি ভিন্ন ধরনের প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে স্বল্প মাত্রায় ৭টি প্রোটিন প্রভাবিত হয়েছিল।
প্রোটিনের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি প্লাস্টিকের প্রভাবে অগ্ন্যাশয়ে চর্বি জমা হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশনের লক্ষণও পরিলক্ষিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মাইক্রোপ্লাস্টিককে একটি উদীয়মান পরিবেশগত হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম। এর আগে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রজনন সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা এবং ক্যানসারের যোগসূত্র পাওয়া গেলেও, এই গবেষণাটি অগ্ন্যাশয়ের ওপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবের শক্তিশালী প্রমাণ দেয়।
যেহেতু পানির বোতলসহ দৈনন্দিন অসংখ্য পণ্যে পিইটি প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, তাই এর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্লাস্টিক দূষণ কেবল মানুষের স্বাস্থ্য নয়, বরং সামগ্রিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্যও বড় হুমকি। প্লাস্টিক বর্জ্য ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে দেয়, যা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে পুনরায় মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কঠোর আইন প্রণয়নের তাগিদ দিচ্ছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বোতল ব্যবহার এবং প্লাস্টিক পাত্রে খাবার গরম করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
সূত্র: সামা টিভি
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



