ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে দেশটির ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। বিনিময়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি বাংলাদেশের ২ হাজার ৫০০ পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া পণ্যের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশর ট্যারিফ লাইনে মোট পণ্যের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৫৮টি। এর মধ্যে ৩২৬টি পণ্য বাদ দিয়ে বাকি সব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪১টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেত। নতুন চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যের মধ্যে ৪ হাজার ৯২২টিতে চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই এ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৫৩৮টি পণ্যের শুল্কহার পাঁচ বছরের মধ্যে শূন্যে নামানো হবে। প্রথম বছরে শুল্ক ৫০ শতাংশ কমানো হবে এবং পরবর্তী চার বছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সমানুপাতিক হারে হ্রাস করে শূন্য করা হবে।
আর ৬৭২টি পণ্যের শুল্কহার ১০ বছরের মধ্যে শূন্য করবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রথম বছর ৫০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করাসহ পরের নয় বছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশকে সমানুপাতিক হারে কমিয়ে শূন্য করা হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য ক্রয়ের অঙ্গীকার করেছে, সেসব পণ্য অন্য উৎস থেকে কেনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য বিধায় সে বাজার ধরে রাখার জন্য তাদের বাজার থেকে ক্রয়ের অঙ্গীকার করা হয়েছে; এতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় হবে না। শুধু উৎসের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি বাজার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫টি দেশের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চুক্তি করেছে। অনলাইনে প্রকাশিত চুক্তিগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি)-এর কিছু মিল রয়েছে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার চুক্তিতে ডিজিটাল ট্রেড–সংক্রান্ত কোনো নতুন চুক্তি সইয়ের আগে ওই দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া এআরটির খসড়ায় এ ধরনের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত নেই।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেননি যে, যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে বাংলাদেশ চীন, রাশিয়াসহ নন-ইকোনমিক মার্কেটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে কি না—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধান আছে কি না। তিনি জানান, রুলস অব অরিজিনের টেক্সটে বিদেশি বা স্থানীয় মূল্য সংযোজনের নির্দিষ্ট হার উল্লেখ নেই। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া তুলনামূলক সহজ হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি)-এর আওতায় কাগজবিহীন বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, ই-কমার্স লেনদেনে কাস্টমস শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশ, কারিগরি ও অশুল্ক বাধা হ্রাস, বাণিজ্য সহজীকরণ, কনফর্মিটি অ্যাসেসমেন্ট সনদ, সুশাসন এবং পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয়ের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত ৯টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারেও বাংলাদেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।
এ চুক্তিতে ই-কমার্সে শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফার্মাসিউটিক্যালস আমদানিতে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যামিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সনদ থাকা সাপেক্ষে মার্কেট অথরাইজেশনের জন্য পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। পুনরুৎপাদন করা পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা; খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি উদ্যোগকে স্বীকৃতি প্রদান; ডেইরি পণ্য, মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতে মার্কিন সনদকে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়সমূহের উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



