ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক অর্থনীতির বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেও গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকার পাশাপাশি বাণিজ্যে গতি ফেরার আভাস মিলেছে। মাসভিত্তিক হিসাবে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৪১ কোটি ডলারের বেশি। আগের মাস ডিসেম্বর ২০২৫-এ এই আয় ছিল ৩৯৭ কোটি ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয়ে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলার, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলারের তুলনায় কম। এতে বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি পারফরম্যান্সে এখনও বিদ্যমান রয়েছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইপিবি জানায়, তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত আগের মতোই তার শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। আলোচ্য সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এটি বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা স্থিতিশীল থাকা এবং খাতটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
আরএমজি খাতের বাইরে শীর্ষ ছয়টি রপ্তানি খাত—চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল এবং হিমায়িত মাছ—এর রপ্তানি পারফরম্যান্সে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। এসব খাতে কোথাও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও কোথাও আবার নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যে বছরওয়ারি ও মাসওয়ারি—দুই হিসাবেই রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি সময়ে প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাজার হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫২২ কোটি ডলারে। একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বছরওয়ারি হিসাবে ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মাসওয়ারি হিসাবে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রপ্তানিতে ইতিবাচক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
রপ্তানি আয়ের হিসাবে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে রয়েছে। এ দুই দেশে রপ্তানি আয় হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ডলার ও ২৭৮ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্যে আরও দেখা যায়, গ্রেট ব্রিটেন, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি আয় সংশ্লিষ্ট সময়, বছরওয়ারি এবং মাসওয়ারি—সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



