ছবি: সংগৃহীত
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ২২ মার্চ থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ছয় দিনে প্রায় সাত লাখ পর্যটক সৈকত ভ্রমণ করেছেন। আগামী সোমবারের মধ্যে আরও তিন লাখ পর্যটক আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, ছয় শতাধিক রেস্তোরাঁ ও তিন হাজারের বেশি দোকানসহ পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে।
কক্সবাজার কলাতলী হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘সব মিলিয়ে সোমবার পর্যন্ত ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা করা হচ্ছে। হোটেলের দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। রোজার মাসে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ঈদের পর তা তুলে নেওয়া হয়েছে।’
সমুদ্রে স্নান ও সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি পর্যটকেরা আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও ভিড় করছেন। বিশেষ করে ৮৪ কিলোমিটারের কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী ও পাটোয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, টেকনাফের মাথিনকূপ, নাফ নদীর সীমান্ত এলাকা, রামুর বৌদ্ধপল্লি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এবং মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরেও ভিড় বেড়েছে। পাহাড়, ঝরনা, সাগর ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য উপভোগ করতেই পর্যটকেরা এসব স্থানে ছুটছেন।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুগন্ধা পয়েন্টে এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যটক সাগরে নেমেছেন—কেউ সাঁতার কাটছেন, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছেন। অনেকে জেট স্কিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গভীর সমুদ্রে। বালুচরে বসানো হাজারের বেশি চেয়ার–ছাতা পুরোপুরি দখলে ছিল। সিগাল, লাবণী ও কলাতলী সৈকতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ঘোড়া ও বিচ বাইকে সৈকত ঘুরে দেখছেন অনেকে, আর শিশুরা বালুচরে খেলায় মেতে উঠেছে। পর্যটকেরা সমুদ্র ও সূর্যাস্তকে পটভূমি করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা ইফতিখার আলম বলেন, ‘সমুদ্রের টানেই কক্সবাজারে আসা। কয়েকবার গোসল করেছি, সূর্যাস্ত দেখেছি। এখন মেরিন ড্রাইভসহ আশপাশ ঘোরা বাকি।’ তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘ঢেউয়ের মধ্যে নামলে অন্য রকম আনন্দ লাগে, সূর্যাস্তও খুব সুন্দর লাগে।’ গাজীপুর থেকে আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এক জায়গায় এত বৈচিত্র্য দেশের আর কোথাও নেই। তাই বারবার কক্সবাজারেই আসি।’ মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা আল আমিন বলেন, ‘পানিতে নামলে আর উঠতে ইচ্ছা করে না।’ পর্যটকের ভিড় বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পানিতে নামা মানুষদের সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন সি–সেফ লাইফগার্ডের ২৭ কর্মী। এর মধ্যেও গতকাল বৃহস্পতিবার সমুদ্রে তলিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এর আগের পাঁচ দিন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ছয় দিনে সাত লাখ পর্যটক এসেছেন। ভিড়ে ৪০ শিশু হারিয়ে গিয়েছিল, সবাইকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৈকত, হোটেল–মোটেল জোন, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেকসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পাঁচ শতাধিক হোটেলের ৯৮ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অতিরিক্ত কক্ষভাড়া ও খাবারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা আটকাতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছেন।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



