ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকে পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৭ জন ফ্লাইট ক্রুকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। মানবিক বিবেচনা ও সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়। প্রায় পাঁচদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে তারা দেশের মাটিতে ফিরে আসতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতজনিত পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ২৭ জন ক্রু সদস্য দুবাইয়ে আটকে পড়েন। যুদ্ধাবস্থার কারণে আকাশপথে চলাচল ও ফ্লাইট পরিচালনায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারেননি। ফলে হঠাৎ করেই অনিশ্চিত এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তারা। কয়েকদিন ধরে তারা দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
এই সময়টিতে ক্রু সদস্যদের পরিবার-পরিজনও দেশে চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রিয়জনরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন কি না—এমন উদ্বেগে অনেকেই মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। অবশেষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হলে পরিবারগুলোর মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বিমানের ক্রু সদস্যদেরও একই ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইতোমধ্যে ৫ মার্চ পরিচালিত বিশেষ ফ্লাইটে মোট ৩৭৮ জন যাত্রী নিরাপদে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। তাদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৭ জন ফ্লাইট ক্রুও ছিলেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর দেশের মাটিতে পা রেখে অনেকেই স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে আটকে পড়া আরও বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আরেকটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল ৬ মার্চ, শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এই ফ্লাইটের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
বিশেষ এই উদ্ধার ফ্লাইটগুলো পরিচালনার জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের ৪৩৬ আসনের অত্যাধুনিক এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে। বড় ধারণক্ষমতার এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে একসঙ্গে বেশি সংখ্যক যাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা সবসময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে বিদেশে সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ানোকে তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে দেশে ফিরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্রু সদস্যরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকদিন কাটানোর পর দেশে ফিরে আসতে পেরে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সংকটময় সময়ে সহযোগিতা করা প্রতিষ্ঠানটির মানবিক দায়িত্বের অংশ। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই দুবাইয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রী ও ফ্লাইট ক্রুদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। দেশের মানুষের পাশে থাকা এবং সংকটময় সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির নীতির অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



