ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাভাস ছিল যে বাংলাদেশকে বাদ দেবে আইসিসি। শেষ পর্যন্ত হলোও সেটিই। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে রাখছে না তারা।
লিটন কুমার দাসদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থাৎ নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রাণান্ত চেষ্টা কাজে এলো না। শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া মিলছিল না আইসিসির। বাংলাদেশও অনড় অবস্থান ধরে রেখেছিল।
তবে বিশ্বকাপের আর মাত্র ১৩ দিন বাকি থাকতে একটি সিদ্ধান্তে যেতেই হতো আয়োজকদের। অবশেষে প্রত্যাশিত সেই চরম সিদ্ধান্তই নিল আইসিসি। তবু হাল ছাড়ছে না বিসিবি। এখনো লড়াই করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের একজন পরিচালক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের শরণাপন্ন হবে বিসিবি। সেই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ভরসা দিচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
পাকিস্তানের হুঁশিয়ারির পরও শক্ত অবস্থানেই আছে আইসিসি। গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি লিখেছে, ‘আইসিসি ঘোষণা করছে, প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিসিবি অস্বীকৃতি জানানোয় ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে।
এমন এক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য ভারতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই। এ জন্য আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।’ সংস্থাটি আরো দাবি করেছে, ‘বিসিবি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশের পর আইসিসি যাচাই-বাছাই করে দেখেছে যে ভারতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, কর্মকর্তা বা সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই। এসব তথ্য এবং সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করে আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রকাশিত টুর্নামেন্ট সূচি পরিবর্তন করা উপযুক্ত হবে না।’
বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলতে দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে আইসিসি। টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধা পেয়েছে ইউরোপ অঞ্চলের দলটি। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও বর্তমানে তারা ১৪তম স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্টে পারফরম্যান্সও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে ইংল্যান্ডের সমান পয়েন্ট নিয়েও রান রেটে পিছিয়ে থাকায় বিদায় নিতে হয়েছিল স্কটল্যান্ডকে। ২০২২ সালে গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল দলটি। আর ২০২১ সালে বাংলাদেশকেই হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছিল তারা।
আইসিসির গতকালের সিদ্ধান্তের পরও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবির এক পরিচালক, ‘আমরা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা করছি। কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এটা জানি যে হয়তো সুযোগও নেই। তবু ক্রীড়া আদালতে যাওয়া যায় কি না, সেটা আমরা দেখব।’
এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে মনে করছেন পিসিবিপ্রধান মহসিন। গতকাল দেশটির সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আইসিসির বোর্ড মিটিংয়েও আমি এটাই বলেছি। দ্বৈত নীতি ঠিক নয়। একজনের জন্য এক রকম সিদ্ধান্ত, আরেকজনের জন্য আরেক রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি। আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক। তারা বড় অংশীদার, তাদের সঙ্গে অন্যায় হোক, সেটা আমরা চাই না।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি, ‘সরকার যা করতে বলবে, আমরা সেটাই করব। প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই। তিনি দেশে ফিরলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা-ই করা হবে। যদি পাকিস্তান সরকার খেলতে মানা করে, তাহলে আমাদের খেলার সুযোগ নেই। এই সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে। আমাদের হাতে পরিকল্পনা এ, বি, সি, ডি—সবকিছুই আছে। সিদ্ধান্ত এলে আপনারা দেখতে পারবেন আমরা কী করব।’

বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



