ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটি আগামী শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। বুধবার (১৮ মার্চ) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গালফ নিউজ জানায়, বুধবার দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং তার পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ ঈদ উদযাপিত হবে।
অপরদিকে সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেসরকারি ও অলাভজনক (নন-প্রফিট) খাতের কর্মীদের জন্য চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানায়, ১৮ মার্চ রাত থেকে এই ছুটি শুরু হবে। সৌদি শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী এই ছুটি কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল রুজাকি বলেন, আগেভাগে ছুটি ঘোষণা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো—যেন প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই কাজের সময়সূচি ঠিক করতে পারে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ চালু রাখা সহজ হবে, অন্যদিকে কর্মীদের ঈদের ছুটির অধিকারও নিশ্চিত হবে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর চাঁদ দেখা নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের আলোকে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে। তার ভিত্তিতে এই দুই দেশ পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করবে। আর সিঙ্গাপুরে ঈদ উদ্যাপন করা হবে শনিবার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে উন্মুক্ত স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই দেশে এবার শুধু মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
অপরদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে উন্মুক্ত স্থানে ঈদুল ফিতরের জমায়েত স্থগিত করা হয়েছে। এই দুই দেশে এবার শুধু মসজিদেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ইসলামি বিষয়াবলি, ওয়াক্ফ ও জাকাত’বিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার সারা দেশের মসজিদগুলোর ভেতরেই ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ঈদগাহে নামাজের আয়োজন করা হবে না। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ সিদ্ধান্ত পুরো আমিরাতের জন্যই প্রযোজ্য। ঐতিহ্যবাহী উন্মুক্ত ঈদগাহে এবার ঈদের নামাজ হবে না।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত সুষ্ঠুভাবে নামাজ আয়োজন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুসল্লিরা এবার নিজ নিজ এলাকার মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঈদের নামাজের জন্য মুসল্লিদের জায়গা দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সব মসজিদ প্রস্তুত রয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও নিয়মাবলি মেনে চলতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে গালফ-টাইমস জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কাতারেও ঈদগাহের বদলে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির ওয়াক্ফ ও ইসলাম ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুসল্লিদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



