ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে জনমত যাচাইয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের মাধ্যমে প্রচারণা চলছে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
আর প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম হবে সোশ্যাল মিডিয়া। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পোশাক কারখানার সামনে ঝোলাতে বলা হয়েছে ব্যানার। জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আলোচনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন চালাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া গণভোটের পক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, রাষ্ট্র সংস্কারে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। গণভোটে চারটি বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাতে পারবেন ভোটাররা।
গণভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। ওই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার
পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জুলাই সনদে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৬টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন উদ্যোগ নেই। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে সর্বাত্মক প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজকে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ অন্যদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রচার কার্যক্রমের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রচারণা যত দিন চালানো যাবে, তত দিন পর্যন্ত গণভোটের প্রচারও চলবে। উপজেলা, জেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে এই প্রচারণা চালানো হবে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনসহ অন্যান্য কমিশন গঠন করা হয়েছিল। আমরা সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো শুরু করেছি।”
তিনি বলেন, এই সরকার অন্যান্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নয়; গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানতম এজেন্ডা হচ্ছে সংস্কার, বিচার দৃশ্যমান করা ও নির্বাচন। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে জুলাই সনদকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরের প্রধানদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গণভোটের প্রচারণা চালাতে হবে। ওই সব দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সব কর্মকর্তার ফেসবুকে সেটি ট্যাগ করতে হবে। এই প্রচারণা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ গণভোটবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল প্রচারের জন্য একটি টিম তৈরি করবে। তারা অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করবে, যা ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে সব পর্যটনস্থল, পর্যটনস্থলের হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট বা লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে ব্যানার বা পোস্টার লাগানো হবে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরিসহ যানবাহনে লিফলেট-ফেস্টুন প্রদর্শন করা হবে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণভোটবিষয়ক ব্যানার স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে আলাদা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকার জনবহুল স্থানে ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন বসানো হবে। চালানো হবে মাইকিং। গ্রাম পুলিশের মাধ্যমেও প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে প্রচারণা চালানোর দায়িত্ব নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই প্রচার কার্যক্রমের সুবিধায় ৩০টি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করবে। এ পর্যন্ত সাতটি কনটেন্ট তৈরির পর প্রচার শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



