ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকির লক্ষ্যে গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ এবং সংশ্লিষ্ট কাঠামোতে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
হোয়াইট হাউজ জানায়, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প একটি ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই বোর্ড সাময়িকভাবে গাজার শাসনব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করবে এবং যুদ্ধ–পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রতিটি সদস্যের ওপর গাজাকে স্থিতিশীল করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সফলভাবে পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেই বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন এবং একে ‘যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড’ বলে উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, একটি প্রধান বোর্ড থাকবে, যার সভাপতি হবেন ট্রাম্প নিজে। একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের কমিটি থাকবে, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটি শাসন করবে এবং একটি দ্বিতীয় ‘এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ থাকবে, যার ভূমিকা মূলত পরামর্শমূলক বলে মনে হচ্ছে।
এ পর্যন্ত বিভিন্ন কাঠামোয় যাদের নাম যুক্ত হয়েছে, তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো :
হোয়াইট হাউস যাদের নিশ্চিত করেছে-
বোর্ড অব পিস
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বোর্ড অব পিস ‘শাসন সক্ষমতা উন্নয়ন, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন এবং পুঁজি সংস্থাপন’–সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নজর দেবে।
এতে থাকবেন—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (সভাপতি), মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ আলোচক স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, মার্কিন ধনকুবের অর্থায়নকারী মার্ক রোওয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।
গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি
গাজা প্রশাসনের জন্য একটি জাতীত কমিটি থাকবে। টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত এ কমিটি ‘গাজায় মৌলিক জনসেবা পুনরুদ্ধার, বেসামরিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দৈনন্দিন জীবন স্থিতিশীল করা’ তদারকি করবে।
এতে কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথ।
গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড
গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের উদ্দেশ্য হলো ‘কার্যকর শাসনকে সহায়তা করা’ এবং গাজার জনগণের জন্য সেবা নিশ্চিত করা।
এতে থাকবেন স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, টনি ব্লেয়ার, মার্ক রোওয়ান, বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ, গাজার জন্য জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়ক সিগরিড কাগ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, কাতারি কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি, মিসরের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জেনারেল হাসান রাশাদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী রিম আল-হাশিমি, ইসরায়েলি ধনকুবের ইয়াকির গাবাই।
এ ছাড়া বোর্ডে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকজন নেতা। এর মধ্যে আছেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্তোদুলিদেস, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জর্দানের রাজা আবদুল্লাহ, রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
সূত্র : এএফপি, রয়টার্স
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



