ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির সময়েও দেশের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে National Board of Revenue (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে ঈদের দিন ব্যতীত ছুটির অন্যান্য দিনগুলোতে দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছুটির মধ্যেও আমদানি ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এনবিআরের কাস্টম নীতি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় দেশের সব কাস্টম হাউস, শুল্ক স্টেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, যাতে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত জরুরি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।
এনবিআরের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এবং রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সীমিত আকারে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম চালু থাকবে। এ সময় প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের দাবি বিবেচনায় নিয়েই মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে মার্চের শুরুতে দেশের শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (বিজিএমইএ) আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও কাস্টমস কার্যক্রম চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানায়।
বিজিএমইএ তাদের চিঠিতে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মৌসুম ও নির্ধারিত সময়সীমার ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে শুধু উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন না, বরং দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সংগঠনটির মতে, অনেক সময় অর্ডার প্রস্তুত থাকলেও ছুটির কারণে কাস্টমস বা ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে পণ্য জাহাজীকরণে বিলম্ব ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ফলে বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে বন্দর, কাস্টমস এবং ব্যাংকিং খাতের সমন্বিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সব সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাস্টম হাউস ও কাস্টমস স্টেশনগুলো খোলা রাখার অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ অন্যান্য কাস্টমস স্টেশন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা এবং Export Promotion Bureau (ইপিবি) যেন প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান চালু রাখে—সেই আহ্বানও জানানো হয়।
রপ্তানিকারকদের দাবি ছিল, ছুটির মধ্যেও এসব প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে কার্যক্রম চালু রাখলে প্রস্তুত পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণ করা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছে দেওয়া যাবে। এতে দেশের রপ্তানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও অব্যাহত থাকবে।
এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ছুটির দিনগুলোতে সীমিত কার্যক্রম চালু রাখার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে ঈদের ছুটির সময়েও দেশের গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেকটাই সচল থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবিও পূরণ হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের মতো দীর্ঘ ছুটির সময়েও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখা গেলে দেশের রপ্তানি খাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



