ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা চতুর্থ দফায় আরও এক মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর কাছে সুপারিশ আকারে ফাইল পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এনবিআরের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, চলতি করবর্ষে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বহু করদাতা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার পরপরই শুরু হওয়া পবিত্র রমজান মাসের কারণে অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবী সমিতি ও কর–পরামর্শক সংগঠন নতুন সরকারের কাছে সময় বৃদ্ধির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চতুর্থ দফায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।
আয়কর আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময় পার হলে জরিমানা ও অন্যান্য আর্থিক দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে চলতি ২০২৫–২৬ করবর্ষে বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রথম দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে তৃতীয় দফায় আরও এক মাস বাড়িয়ে সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়, যা শনিবার শেষ হওয়ার কথা। এবার চতুর্থ দফায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে করদাতারা অতিরিক্ত এক মাস সময় পাবেন।
রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সময় বৃদ্ধি করদাতাদের স্বস্তি দেবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ জোগাবে। বিশেষ করে যারা ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে নতুন, তাদের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এনবিআর ইতোমধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থাকে সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা অনলাইনে (ই-রিটার্ন) আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত কয়েক বছরে ই-রিটার্ন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। করদাতারা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন, ফলে কর অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন কমেছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।
এনবিআর করদাতাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, বিদ্যমান ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৫–২৬ করবর্ষের রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ মিলবে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হলে গণমাধ্যম ও এনবিআরের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হবে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের সুবিধার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। আগে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠিয়ে লগইন বা পাসওয়ার্ড রিসেট করতে হতো। কিন্তু অনেক প্রবাসী করদাতা বিদেশে অবস্থান করার কারণে সেই মোবাইল নম্বরে ওটিপি গ্রহণ করতে পারছিলেন না। এ সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখন করদাতারা নিজস্ব ই-মেইলে ওটিপি গ্রহণ করে রেজিস্ট্রেশন, পাসওয়ার্ড পুনঃনির্ধারণ এবং রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে করসেবা সহজীকরণই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ই-রিটার্ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে করদাতাদের আস্থা বাড়ছে এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় বৃদ্ধি একদিকে যেমন করদাতাদের চাপ কমাবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ সময়সীমা বাড়লে অনেকে জরিমানার ভয়ে নয়, বরং সচেতনতার ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিল করবেন। এতে কর নেট সম্প্রসারণের লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।
এখন সব চোখ অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে। অনুমোদন মিললেই ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের নতুন সময়সীমা কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ততক্ষণ পর্যন্ত করদাতাদের বিদ্যমান সময়সীমার মধ্যেই রিটার্ন প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



