ছবি: সংগৃহীত
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের সীমা স্পর্শ করতে পারবে না। ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের জিডিপি বাড়লেও হার ৬ শতাংশের নিচে থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে এক বছরের জন্য প্রবৃদ্ধি সামান্য কমতে পারে। বাকি চার বছরে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পাবে, যার মধ্যে এক অর্থবছরে হার ১ শতাংশের বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, করোনার সংক্রমণ ও বৈশ্বিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫.৮ শতাংশ। একই কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২ শতাংশে নেমে আসে।
ওই সময়ে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; অভিযোগ আছে, তারা প্রকৃত চেয়ে বেশি হার দেখিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এক মাস পাঁচ দিন ছাড়া বাকি সময় ক্ষমতায় ছিল বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যবসায়ীদের পলায়ন ও জেলে থাকার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ওই সরকারের হিসাব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাব ৪.৭ শতাংশ হতে পারে বলে আইএমএফ আশা করছে। তবে সরকার মনে করছে, প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে যেতে পারে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে তা আবার এক শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। ২০২৯-৩০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। এই সময়ে প্রবৃদ্ধি সবসময় ৬ শতাংশের নিচে থাকবে। একই সময়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে থাকবে। এর আগে, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে ছিল। তবে ওই সময়ের অর্জিত প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে আপত্তি উঠেছিল।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



