ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত আয়কর সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা, প্রশাসনিক ভোগান্তি ও করদাতাদের হয়রানি কমাতে একটি যুগান্তকারী স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করেছে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানির সময় পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন সিস্টেমে কর ক্রেডিট হিসেবে যুক্ত হবে। ফলে করদাতাদের আর আলাদাভাবে কোনো তথ্য, কাগজপত্র বা প্রমাণ দাখিল করার প্রয়োজন পড়বে না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, করদাতাদের সুবিধার্থে ই-রিটার্ন সিস্টেমের সঙ্গে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড (ASYCUDA World) সিস্টেমের কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সংযোগের ফলে আমদানিকারক করদাতাদের আয়কর ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে কোনো আমদানিকারক করদাতা যখন ই-রিটার্ন সিস্টেমে ব্যবসায়িক আয়ের তথ্য এন্ট্রি করবেন, তখন সংশ্লিষ্ট আয়বছরে প্রতিটি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে তিনি যে পরিমাণ অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করেছেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে প্রদর্শিত হবে। অর্থাৎ করদাতাকে আলাদাভাবে বিল অব এন্ট্রির তথ্য বা ট্যাক্স চালান আপলোড করতে হবে না।
এই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত অগ্রিম আয়কর পরবর্তীতে করদাতার মোট প্রদেয় আয়করের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে কত টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বা অতিরিক্ত পরিশোধ থাকলে সেটি কীভাবে সমন্বয় হবে—সবকিছুই ই-রিটার্ন সিস্টেম নিজেই নির্ধারণ করবে। এতে করে কর নির্ধারণে ভুলের সম্ভাবনা কমবে এবং করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জটিলতাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
কর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। এতদিন আমদানিতে পরিশোধিত অগ্রিম আয়কর রিটার্নে সমন্বয় করতে গিয়ে করদাতাদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র জমা দেওয়া, কর অফিসে দফায় দফায় হাজিরা, এমনকি অযাচিত হয়রানির অভিযোগও ছিল। নতুন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়েছে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৬ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ লাখ করদাতা ইতোমধ্যেই অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, যেসব করদাতার জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়, তারাও স্বেচ্ছায় এই অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় রিটার্ন দাখিল করছেন। এতে করে কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
চলতি কর বছরে প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতাদের জন্যও ই-রিটার্ন সিস্টেম উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে দাখিল করেছেন।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড করার প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কাগজবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা ঘরে বসেই সহজে আয়কর পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। করদাতাদের সময় ও খরচ কমানোর পাশাপাশি এটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি করদাতাদের কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা এবং কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে দাখিল করার জন্য সব ব্যক্তি করদাতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিতে পরিশোধিত আয়কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত হওয়ার এই উদ্যোগ কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও আস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলবে।
বাংলাবার্তা/এসজে
.png)
.png)
.png)



