ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় একটি কাঠের তৈরি রিসোর্টে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটন কেন্দ্রটির 'টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্ট'-এ শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে আরও অন্তত সাতজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সার্বিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে এই ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন জানান, সকালে প্রথম আগুন দেখতে পাওয়ার পরপরই তা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর মধ্যেই রিসোর্টের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের পর পরই আগুন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে কাঠের তৈরি ৩ তলা রিসোর্টটির পুরো স্থাপনায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টার দিকে রিসোর্ট এলাকা থেকে একটি তীব্র বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো কাঠের স্থাপনাটি দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।
সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। তাদের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং এসআরবি (SRB)-র সদস্যরা। যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ৯টি কক্ষবিশিষ্ট কাঠ ও দাহ্য উপাদানে তৈরি পুরো রিসোর্টটি ততক্ষণে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস প্রথম দফায় তল্লাশি চালিয়ে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ ও ভবনের ভেতরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি জোরদার করা হলে রিসোর্টের একটি টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হতাহতের ঘটনা আরও ঘটেছে কি না তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে রিসোর্টের ভেতরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন: ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) — বনশ্রী, ঢাকা; মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) — বনশ্রী, ঢাকা; লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) — খিলগাঁও, ঢাকা; নাফিসতা মীম (২৭) — খিলগাঁও, ঢাকা; ফারিহা কবির (৩৩) — চুয়াডাঙ্গা; ফায়িজান আহম্মেদ (০৫) — শিশু (চুয়াডাঙ্গা); উদ্ধার হওয়া বাকি চারজনের পরিচয় উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উখিয়ার এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সার্বিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে এই ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এই তদন্ত কমিটি মূলত তিনটি বিষয়ে কাজ করবে:
১. অগ্নিকাণ্ডের মূল সূত্রপাত কীভাবে এবং কোথা থেকে হয়েছে তা নির্ণয় করা।
২. ভয়াবহ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কারণ পর্যালোচনা করা।
৩. উক্ত রিসোর্টটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নি-নির্বাপণ ও পর্যটক নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



