ছবি: সংগৃহীত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ার পর সৃষ্ট কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে ভারতের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায় সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ক্রীড়াসহ সব ক্ষেত্রে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেয়ার পর নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ সংসদ ভবনে ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছি। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির সমাধান হোক।’
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ নেয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে বদলি করে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হয় টুর্নামেন্টটিতে।
গত জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর ভারতের সঙ্গে সে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কূটনৈতিক জটিলতার কারণে আমরা বিশ্বকাপে খেলতে পারিনি। বিষয়গুলো আগে আলোচনা করে সমাধান করা গেলে দল হয়তো অংশ নিতে পারত।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিসিবি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। আগেও বলেছি, এখনও বলছি।’
তিনি জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিমালার আওতায় পড়ে। আইন ও বিধিবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এক দিনে সবকিছু বদলানো সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের চর্চা সংস্কার করতে সময় লাগে। ক্রীড়াকে যেন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত না করা হয়, সেই চেষ্টা থাকবে। যারা সত্যিকার অর্থে ক্রীড়াপ্রেমী, তাদেরই দায়িত্বে আনা হবে।’
দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তাদের অবদান আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি। তবে তাদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমাধান করতে হবে। আমরা চাই তারা দ্রুত দেশে ফিরে ক্রিকেটে যুক্ত হোন।’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের অংশ থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়। সাকিব ও মাশরাফিও সেই তালিকায় আছেন।
কূটনৈতিক জটিলতা নিরসন, বিসিবি সংস্কার এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রত্যাবর্তন; এই তিনটি ইস্যু এখন ক্রীড়া অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে। সরকারের নতুন নেতৃত্ব কত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এগিয়ে নিতে পারে, তা-ই নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও আঞ্চলিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



