ছবি: সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটলেও আশানুরূপ ফল আসেনি। ৩০০ আসনের সংসদে অভ্যুত্থান থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টিতে জয়ী হয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভোটাররা দীর্ঘদিনের পরিচিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) বেছে নিয়েছেন। কী কারণে এমনটা ঘটল? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে রয়টার্সের এই প্রতিবেদনে।
রয়টার্সের সাংবাদিক জিয়া চৌধুরী, রুমা পাল এবং কৃষ্ণ এন দাসের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরে এনসিপি ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক তরুণ নাখোশ হয়েছেন। শুরুতে অধিকাংশ আসনে লড়তে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ৩০টি আসনে প্রার্থী দেয় দলটি। অভ্যুত্থানের অন্যতম এক নেতার মৃত্যুর পর নিজেদের সুরক্ষা ও সাংগঠনিক শক্তির প্রয়োজনে এই জোট গঠন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে এনসিপি।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট করা অনেক তরুণের কাছে বিশ্বাসভঙ্গ বলে মনে হয়েছে। যারা নতুন ধারার রাজনীতি চেয়েছিল, তারা এনসিপিকে সমর্থন দেয়নি।’
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, ভোটাররা এই জোটকে ‘পুরোনো ধারার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া’ হিসেবে দেখেছেন। এর ফলে তরুণদের ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানুষ বেছে নিয়েছে।
এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের জন্য দলকে শক্তিশালী করার মতো সময় তারা পাননি। এ ছাড়া তহবিলের অভাব এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অস্পষ্ট অবস্থানও দলটির জন্য নেতিবাচক হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তারা এখন বিরোধী দলে থেকে পুনর্গঠন কাজ করবেন। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোযোগ দেবেন।
জয়ী প্রার্থীদের একজন আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘আমাদের যাত্রা কেবল শুরু। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে আমরা যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়নে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেব।’
অন্যদিকে, জোটের প্রতিবাদে এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র লড়া ডা. তাসনিম জারা ঢাকায় ৪৪ হাজার ভোট পেলেও জয়ী হতে পারেননি। তিনি জানান, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির জন্য আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরাজয় সত্ত্বেও দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



