ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। দেশের উত্তরাঞ্চলে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। শুক্রবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সারা দেশে আপাতত এই শীতের প্রকোপ কমছে না। শনিবারও দিন-রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রোববার তা আরও সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া এই দুদিন শৈত্যপ্রবাহও অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। যদিও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা কিছুটা উঠানামা করলেও জানুয়ারিজুড়েই তীব্র শীতের প্রকোপ থাকবে। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। শনিবারের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এদিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রোববার ও সোমবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার তথ্য জানানো হয়। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খব-
পঞ্চগড় : জেলায় এখন বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জেঁকে বসেছে শীত। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। রাতভর উত্তরের হিম বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশার দাপট ছিল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত। তবে সকাল ১০টার পর পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য। বৃহস্পতিবার সকালে ঘন কুয়াশা থাকলেও দুপুর নাগাদ রোদের দেখা মিললে দিনভর কিছুটা স্বস্তি ছিল জনমনে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে সেটাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করলে তাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এদিকে পঞ্চগড়ে কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। অবস্থানগত কারণে প্রতি মৌসুমেই পঞ্চগড়ে তীব্র শীত অনুভূত হয়। কিন্তু এবার শীতের তীব্রতা যেন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। শিশু ও বয়স্ক লোকজন সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে কয়েক দিনের শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। শুক্রবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজারহাট সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রুবেল মিয়া বলেন, শীতের কারণে সকালে রিকশা নিয়ে বের হতে পারি না। সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া বলেন, আমি বিলে ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। শীতের কারণে কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে সংসার চালাতে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়রিয়া। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ৯ উপজেলায় যথাযথভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান রয়েছে।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) : শুক্রবার সকাল ৮টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। শহরের দারুল উলুম মাদরাসা মোড়ে ওষুধ বিক্রেতা জিসান বলেন, কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে দোকানের ভেতর বসে থাকতে পারছি না। তাই আগুন জ্বালিয়ে হাত-পা ও শরীর গরম করে নিচ্ছি। হিমেল হাওয়ায় শরীর বরফ হয়ে যাচ্ছে। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, গত ৩ দিন ধরে সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়াও বইছে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



