ছবি: সংগৃহীত
বন্দরসংশ্লিষ্ট সব সেবা এক প্ল্যাটফর্মে এনে চট্টগ্রাম বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নেওয়ার পথে বড় মাইলফলক অর্জিত হলো। এনবিআর, কাস্টমস ও পোর্টের সব কার্যক্রম সহজ ও দ্রুত করতে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই)’ চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের বোর্ডরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বন্দরের অটোমেশন প্রক্রিয়ার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। চুয়েট অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে। পুরো টিম সময়মতো এই জটিল কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এজন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব বন্দর ডিজিটাল ও অটোমেটেড ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। আমাদের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম আছে, এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম আছে—কিন্তু বাস্তবে আমাদের কোনো পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না। আজ থেকে সেই ঘাটতি পূরণ হলো, বলেন তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় পর্যায়ে এনবিআর একটি ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো তৈরি করছে এবং ডিজি শিপিং মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করছে। চট্টগ্রাম বন্দর যে ব্যবস্থা চালু করেছে, সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, যেখানে কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, আগে টেবিল থেকে টেবিল, কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের কাছে গিয়ে কাজ করতে হতো। এখন সব কাজ হবে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। যে কাজে আগে পাঁচ দিন লাগত, এখন তা আধঘণ্টায় শেষ হবে। এই ব্যবস্থার ফলে কার্গো ডেলিভারি, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানান তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের মুভমেন্ট কমবে, গ্রিন পোর্ট হবে। এটি একটি বড় ধরনের মাইলফলক। সারা বিশ্ব জানবে চট্টগ্রাম বন্দর এখন ডিজিটাল পোর্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম কার্যক্রম এবং প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউর সম্পন্ন করা যাবে। আগে আমদানি পণ্য দেশে আসার পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো। এখন লোড পোর্ট থেকেই অনলাইনে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যাবে। আমাদের অফিসিয়াল ফাংশন পুরোপুরি ডিজিটাল হবে। আমি বলে দিয়েছি—আমি টেবিলে আর কাগজ দেখতে চাই না। আমরা পেপারলেস হতে যাচ্ছি। নতুন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলেও জানান বন্দর চেয়ারম্যান। আগে অনেক সময় মিস ম্যানেজমেন্ট ও ডেলিভারি ডিলে হতো। এখন অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত হবে। কার্গো হ্যান্ডলিং, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইমসহ সব সূচকে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, বলেন তিনি।
তিনি এটিকে ভবিষ্যতের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিল। এর সুফল আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর দেশের মানুষ ভোগ করবে। পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর জন্য আলাদা হেল্পডেস্ক ও এজেন্ট ডেস্ক চালু করা হবে বলে জানান তিনি। এ সেবার জন্য ন্যূনতম চার্জ নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে কল সেন্টারের মতো এজেন্ট ডেস্ক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। শেষে তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাস্তবমুখী, যুগান্তকারী এবং ব্যবহার উপযোগী। এতে সময় ও খরচ—দুটোই সাশ্রয় হবে।
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



