ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এই অঞ্চলে এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় বিমান শক্তি সমাবেশ বলে গতকাল বৃস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, সম্প্রতি জর্দান ও সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ডজন ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬-এর মতো শক্তিশালী ফাইটার জেটের পাশাপাশি অত্যাধুনিক নজরদারি ও যোগাযোগ বিমানও রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের দাবি, একদিনেই ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫০টি বিশেষ ফ্লাইটে করে বিশাল অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ পারস্য উপসাগরে থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’কেও ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এই দুটি রণতরির সঙ্গে থাকছে ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম ১৩টি ডেস্ট্রয়ার।
ইরানের সম্ভাব্য মিসাইল হামলা রুখতে ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে দুই হাজারেরও বেশি স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থাও এসে পৌঁছেছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। প্রয়োজন হলে শনিবার থেকেই হামলা শুরু করা সম্ভব জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।
ঝুঁকি, সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে হোয়াইট হাউসে নিবিড় পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার পরামর্শ দিয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে একটি চুক্তিতে আসা তেহরানের জন্য ‘বুদ্ধিমানের’ কাজ হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান। সামরিক প্রস্তুতি থাকলেও তাত্ক্ষণিক হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তবে সম্ভাব্য অভিযানের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কূটনৈতিক কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় থাকা তাদের সামরিক বাহিনীর প্রায় এক হাজার সেনার মধ্যে সবাইকে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
অন্যদিকে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়ার কারণে দেশের আকাশসীমার বড় অংশ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। বুধবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাইলটদের জন্য এক অস্বাভাবিক নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটাম) জারি করে জানায়, আগামীকাল নির্ধারিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষপণ মহড়ার কারণে আকাশসীমার বিস্তীর্ণ এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ইরানের এমন পদক্ষেপে সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি
বাংলাবার্তা/এমএইচ
.png)
.png)
.png)



